TMC MLA supported main accused in woman assault incident: ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’ এই স্লোগান নিয়েই একসময় তৃণমূল তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচার চালিয়েছিলেন গোটা বাংলা জুড়ে। কিন্তু বাংলায় যে মেয়েরা একেবারেই সুরক্ষিত নয়, সেকথা কী কানে গিয়েছে বাংলার মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর? সম্প্রতি এক মহিলা ও এক যুবককে পাশবিকভাবে তালিবানি কায়দায় যে মারধরের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি খবর ২৪x৭), তা দেখে গা শিউড়ে ওঠে রীতিমতো। আর এই ঘটনায় জড়িত তৃণমূল বিধায়ক ঘনিষ্ঠ। এমন ঘটনার প্রতিবাদ করার বদলে উল্টে অভিযুক্তকেই সমর্থন করলেন তৃণমূল বিধায়ক (TMC MLA supported main accused in woman assault incident)।
যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে সেটি উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া ব্লকের লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক যুগলকে সালিশি সভায় বিচারের নামে মারধর করা হচ্ছে। উপুড় করে যুবতীর পশ্চাতদেশে মারছেন এক ষণ্ড মার্কা লোক। হাত তুলে মারা হচ্ছে বগলে। যুবতীর পাশেই রাস্তায় বসে থাকা যুবককেও একই কায়দায় মারধর করছে ওই ব্যক্তি। লাথি, ঘুষি কিছুই বাদ নেই, চাবুক দিয়েও মারা হয় যুগলকে। দাঁড়িয়ে দেখছেন সকলেই, কিন্তু তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি কেউই (TMC MLA supported main accused in woman assault incident)।
এই যুগলের ‘অপরাধ’ তাদের বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক। সেই কারণই সালিশি সভা ডেকে এমন অত্যাচার। আর যে এই যুগলকে এমনভাবে তালিবানি কায়দায় মারছে, সেই ব্যক্তির নাম তাজমুল। এলাকায় জেসিবি নামে পরিচিত সে। স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক হামিদুর রহমানের ডানহাত হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক প্রভাবশালী সে। তাঁর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না। তাঁর বিরুদ্ধে খুন, সন্ত্রাসের মামলা থাকলেও পুলিশ গ্রেফতার করে না তাকে। আর এই ঘটনায় তৃণমূল বিধায়ক আড়াল করার চেষ্টা করলেন ওই অভিযুক্তকে (TMC MLA supported main accused in woman assault incident)।
এই ঘটনায় জেসিবি-র ভয়ে নির্যাতিতা মহিলাও কোনও অভিযোগ করেন নি ভয়ের জেরে। তবে তৃণমূল বিধায়ক হামিদুর রহমান আবার সংবাদমাধ্যমে এই ঘটনায় বলেছেন, “মহিলাটা তো কমপ্লেন করেনি। আপনারা বেশি বেশি খোঁচায় খোঁচায় বাড়াচ্ছেন। কারণ মহিলাটা স্বামী ছাড়া অসামাজিক কাজ করছিল। অসামাজিক কাজে গ্রাম্য সালিশি বৈঠক বসেছিল। গ্রাম্য বৈঠকে একটা বিচার আচার করেছে। কিছুটা ভুল হয়েছে আমরাও অস্বীকার করছি না। কিন্তু মেয়েটা তো কোনও অভিযোগ করতে যায়নি। মেয়েটার স্বামী কোনও অভিযোগ করেনি। কোনও জবরদোস্তি কিছু কিছু হয়নি। সমাজকে খারাপ করছিল গ্রাম্য সালিশ বসে তার একটা বিচার করেছে” (TMC MLA supported main accused in woman assault incident)।
নির্যাতিতা মহিলার চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল বিধায়ক। বলেছেন, “এটা তো অন্যায় আমরা সবাই বলছি রে ভাই। আরে অন্যায় তো মেয়েটাও করেছে না? নিজের স্বামী, ছেলে – মেয়ে বাদ দিয়ে ও দুশ্চরিত্রবান হয়েছে। এখন আমাদের মুসলিম রাষ্ট্রে সামাজিক আচার – বিচার হয়েই থাকে। বিচারটা যে ভাবে হওয়ার কথা ছিল তা না হয়ে বেশি বেশি হয়ে গেছে। এটা নিয়ে আমরাও ওখানকার গ্রামবাসীদের বকাবকি করছি। আইনি যা ব্যবস্থা হয় সেটা করবে” (TMC MLA supported main accused in woman assault incident)।
এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা করা হয়েছে বিজেপির তরফে। বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “বাংলায় এ ধরনের অজস্র ঘটনা ঘটে। কিন্তু অপরাধগুলোকে চেপে দেওয়া হয়। বারাসতের একটি ছেলে বিয়ে করেছিল ভিন ধর্মের মেয়েকে। সে যখন এক বছরের শিশুপুত্রকে দেখতে শ্বশুরবাড়িতে গেল, তাঁকে জীবন্ত পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ভ্যানচালক তাঁকে তুলি নিয়ে গিয়ে নার্সিংহোমে ভর্তি করান। এখন হাইকোর্টে মামলা চলছে। এই ধরনের ঘটনা ঘটছেই। বিধায়ক তাঁকে চিনবেই। ব্যক্তিগত মানসিকতার কারণে হয়নি”।





“রাজনীতিতে তারকার খ্যাতি নয়, আদর্শ থাকা জরুরি!” “প্রত্যেককে নিরাপত্তা দেবে এমন একজনই হোক মুখ্যমন্ত্রী!” রাজনীতিতে তারকাদের ভূমিকা ও নির্বাচনে আদর্শহীন প্রার্থীদের নিয়ে অকপট লগ্নজিতা চক্রবর্তী!