২১ জুলাই শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোর গলায় বলেছিলেন, বাংলা ভাষার উপরে সন্ত্রাস চলছে। অন্য রাজ্যে বাঙালিদের হেনস্থা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। সেখান থেকেই তিনি ভাষা আন্দোলনের ডাক দেন, যা ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চড়েছে উত্তেজনার পারদ। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই ভাষা-সচেতনতার মধ্যেই ঘর থেকেই উঠেছে বিতর্কের ঝড়।
বিজেপির অভিযোগ, একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচিকে ঘিরে যে সমস্ত পোস্টার শহরের বিভিন্ন প্রান্তে লাগানো হয়েছে, তার একাধিকটিতে উর্দু ভাষায় লেখা রয়েছে, অথচ বাংলা ভাষার কোনও অস্তিত্ব নেই! এমনকি পোস্টারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামটিও লেখা হয়েছে উর্দুতে। এই ইস্যুতে সরব হয়েছে বঙ্গ বিজেপি। সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা পোস্টে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, “তৃণমূল কি বাংলার মাটিতেই বাংলা ভাষাকে খুন করছে?”
ফেসবুকে শেয়ার করা ছবিগুলির সঙ্গে বিজেপি লিখেছে, “তৃণমূল কংগ্রেসের পোস্টারগুলো একবার ভালো করে দেখুন। কোথাও বাংলা ভাষার চিহ্নমাত্র নেই। এমনকি আমন্ত্রণ পর্যন্ত উর্দুতে!” এরপর আরও বলা হয়েছে, “এখনও যদি বাঙালিরা চোখ না খোলে, তাহলে ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর বাংলায় থাকতে গেলে উর্দু শেখা বাধ্যতামূলক হবে। না জানলে বাংলা ছাড়তে হতে পারে।” এমন বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই শোরগোল পড়েছে রাজনৈতিক মহলে।
একদিকে মুখ্যমন্ত্রী একুশে জুলাইয়ের সভা থেকে বলছেন, “বাংলা ভাষার উপরে সন্ত্রাস চলছে।” আবার বলছেন, “ওরা দোকানে গিয়ে মাছ খাবে না, মাংস খাবে না, দোকান ভাঙচুর করছে। বাংলায় এটা করে দেখাও একবার, তারপর সাহসটা দেখব।” অথচ সেই মঞ্চের প্রচারেই উর্দুর আধিপত্য, যা ঘিরে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি একদিকে ভাষা আন্দোলনের ডাক, আর অন্যদিকে উর্দুকে গুরুত্ব—এ এক ধরণের ‘দ্বিচারিতা’?
আরও পড়ুনঃ Dilip Ghosh : “দম থাকলে রিজাইন করে দেখান”, দেবকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ দিলীপ ঘোষ! ঘাটাল ইস্যুতে তৃণমূল সাংসদকে তোপ!
এই বিতর্কের মাঝেই বিজেপি টেনে এনেছে তৃণমূলের পুরনো একটি টুইট, যেখানে উর্দুকে রাজ্যের দ্বিতীয় সরকারি ভাষা করার দাবির কথা বলা হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীরা বলছে, ভাষা আন্দোলনের আড়ালে কি তবে সংখ্যালঘু তোষণ? যদিও এ প্রসঙ্গে তৃণমূল এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে মুখ খোলেনি। তবে বিতর্ক যত গড়াচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—ভাষা নিয়ে রাজনীতি চলছেই, থামছে না কোনও দিন।





