ধর্না মঞ্চ থেকেই দলের কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ, ‘গো ব্যাক’ স্লোগান বাবুলকে সুপ্রিয়কে, ক্ষিপ্ত তৃণমূল কর্মীরা

দলের কর্মীদের সঙ্গেই দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠল রাজ্যের মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র বিরুদ্ধে। সেই কারণে নিজের এলাকাতেই তৃণমূলের ধর্না মঞ্চ থেকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান শুনতে হল বিধায়ককে। জুতো পরে ধর্না মঞ্চে ওঠা, কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে বিদ্ধ বাবুল। তাঁর খারাপ ব্যবহারে ক্ষোভ দেখান কর্মীরা।

ঠিক কী ঘটেছিল?

গতকাল, রবিবার গড়িয়াহাটে কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে তৃণমূলের কর্মসূচিতে যোগ দেন বিধায়ক বাবুল সুপ্রিয়। সেখানেই দলীয় কর্মীদের সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। বাবুল যখন ধর্না মঞ্চে পৌঁছন, তখন স্থানীয় এক নেতা ভাষণ দিচ্ছিলেন। অভিযোগ, তাঁর হাত থেকে মাইক কেড়ে নিয়ে নিজেই বক্তব্য রাখতে শুরু করেন বালিগঞ্জের বিধায়ক। জুতো পরে মঞ্চে ওঠার অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

কী অভিযোগ স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের?

স্থানীয় তৃণমূল নেতা পীযূষ দে অভিযোগ তুলেছেন যে বাবুল সুপ্রিয় দলের কর্মীদের ধাক্কা দিয়েছেন। কয়েকজন তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে গেলে তিনি তাদের দল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। সেই সময়ই বাবুলকে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকে তৃণমূল কর্মীরা।

কী বক্তব্য বাবুলের?

এই ঘটনা প্রসঙ্গে বাবুল সুপ্রিয় বলেন, “পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটানো হয়েছে। আমি আমার ডিগনিটি অনুযায়ী কোথায় কী করতে হয় জানি। দলকে আমি জানিয়েছি। সবটাই ভিডিয়ো রেকর্ড করা আছে। মিডিয়ার কভারেজ পাওয়ার জন্য অনেকরকমের কথাবার্তাই মানুষকে দিয়ে বলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। দিদির নির্দেশে যে কর্মসূচি তার গুরুত্ব নষ্ট করতে কেউ যদি পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে কিছু করে, যা দল ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে। আমি জানি এরকম হবে। তাই রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে জানিয়েওছিলাম সব এলাকাতেই যাব। তাই গিয়েছি। কীসব জুতোর কথা শুনছি, সেই অভিযোগ অন্য জায়গা থেকে আসছে না কেন? দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছে শুনছি। আমার পরিকল্পনা ছিল সকলকে দাঁড় করিয়ে একসঙ্গে জনগণমন করাব। একটা সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়। তাই করাতে চেয়েছিলাম। আর কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এলে, যার এলাকায় গিয়েছি স্বাভাবিকভাবেই সে উঠে দাঁড়ায়। আমি দেখেছি। ধরনা মঞ্চে বাবু হয়ে বসে থাকাটা একটা জিনিস। চেয়ারে বসে থাকাটা অন্য জিনিস”।

কাউন্সিলর দর্শনা মুখোপাধ্যায়ও অভিযোগ তুলেছেন বাবুলের বিরুদ্ধে

দর্শনা মুখোপাধ্যায় বলেন, কী হয়েছে তা গোটা গড়িয়াহাটের মানুষ দেখেছেন। তাঁর কথায়, “অসংখ্য মানুষ ছিলেন। সকলে তার সাক্ষী। বাকি যা বলার দল বলবে। ওঁর ব্যবহার উনি সকলের সামনেই করেছেন। সকলে দেখেছেন। ওঁর আচরণের সাক্ষী গোটা গড়িয়াহাট। আমরা তো শান্তিপূর্ণভাবেই অবস্থানে বসেছিলাম।

উল্লেখ্য, বালিগঞ্জের বিধায়ক বনাম কাউন্সিলরের দ্বন্দ্বের অভিযোগ নতুন নয়। সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হয়। আর সেই ভোটে জিতে বিধায়ক হন বাবুল সুপ্রিয়। এরপর বিজয়া সম্মিলনী থেকে জগদ্ধাত্রী পুজো, বারবার সুদর্শনার অনুগামীদের সঙ্গে বাবুলের দ্বন্দ্ব সামনে এসেছে। দলের লোকজনের সঙ্গে বাবুল খারাপ ব্যবহার করেন বলেই বারবার অভিযোগ সুদর্শনার অনুগামীদের।

RELATED Articles