শহীদদের স্মরণে রাঙামাটিতে প্রজ্জ্বলিত হল শতদ্বীপের আলো

করোনার মধ্যেও বারংবার গুলির লড়াইয়ে কেঁপে উঠেছে ভূস্বর্গ। লকডাউনে যখন মানুষ গৃহবন্দী হয়ে আগামীদিনের চিন্তায় ব্যস্ত তখন দেশের জন্য আত্মবলিদানে তৎপর রয়েছেন সমস্ত জওয়ানরাই। সম্প্রতি উত্তর কাশ্মীরের শ্রীনগরের হান্দোয়ারায় সন্ত্রাসবাদীদের সাথে এনকাউন্টার শহীদ হন এক মেজর ও কর্নেল-সহ চার সেনা জওয়ান এবং জম্মু-কাশ্মীরের পুলিশের আইএস। তাদের কথা স্মরণ করেই গতকাল সন্ধেতে মোমবাতি জ্বালিয়ে শহীদদের প্রতি সম্মান জানালো রাঙামাটির এলাকাবাসীরা।

মূলত রাঙামাটির বাসিন্দা সুশান্ত ঘোষ, দেবব্রত পাত্র, নিশীথ দাস, শিবশঙ্কর দাস, ধর্ম সিং প্রমুখদের উদ্যোগেই আয়োজিত হয় এদিনের স্মরণসভা। রাঙামাটি ফ্লাইওভারের কাছেই বিপ্লবী বিমল দাসগুপ্তের আবক্ষমূর্তির পাদদেশেই মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেন তাঁরা। আয়োজকদের মধ্যে সুশান্ত ঘোষ জানান, ‘এই অনুষ্ঠানে দলমতের ভেদাভেদ ভুলে সকলেই উপস্থিত ছিলেন। চলতি সংকটকে মাথায় রেখেই করোনার নিয়ম মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এদিনের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়।’

হান্দোয়ারার ঘটনায় শহিদদের তালিকায় রয়েছেন কর্নেল আশুতোষ শর্মা, মেজর অনুজ সুদ, নায়েক রাজেশ, ল্যান্স নায়েক দীনেশ-সহ জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের এসআই শাকিল গাজি।এনাদের সকলের আত্মার শান্তি কামনা করে কিছুক্ষনের নীরবতা পালন করা হয়। পাশাপাশি মোমবাতির আলোয় শহীদদের প্রতি সম্মান জানানো হয়। সন্ত্রাসবাদীদের কৃতকর্মের জন্য তাদের নিন্দাও করা হয় ওই সভায়। শহিদদের নামে জয়ধ্বনিও দেন সবাই।

দেবব্রত, নিশীথ, শিবশঙ্কররা জানালেন, ‘একজন গর্বিত দেশবাসী হিসেবে দেশের বীর পুরদের প্রতি সম্মান জানানো আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আজ আমরা তাদের স্মরণে নীরবতা পালন করছি।’ সেই কর্তব্য পালনের সাক্ষী থাকল এক নিস্তব্ধ অন্ধকার। যার বুক ভেদ করে সব অন্ধকারকে দূরে সরিয়ে প্রজ্জ্বলিত হল একশো মোমের আলো। আর সাক্ষী থাকল সারা রাঙামাটি।

RELATED Articles

Leave a Comment