“তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত কোনও কাজই করছে না”, ফেসবুক ভিডিওতে বিস্ফোরক সাংসদ মহুয়া মৈত্র

২০১১ সাল থেকে রাজ্যে রয়েছে তৃণমূল সরকার। ৩৪ বছরের বাম জমানা শেষ করে স্বচ্ছতা ও সততার বাণী শুনিয়ে বিপুল ভোট নিয়ে বাংলার মসনদে বসেছিলেন দিদি ও তাঁর দল। কিন্তু দিন যত ঘনাল তত দেখা গেল ঘটনাটা অনেকটা “যে যায় লঙ্কায় সেই হয় রাবণ” এর আকার নিচ্ছে, দাবি বিরোধীদের। ২০১৬ সালে আবার বিধানসভা নির্বাচনে জিতলেও কোথাও যেন শক্ত ভিতটা নড়ে গিয়েছে বুঝতে পারছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাতে সাবধান হওয়া দূর অস্ত বরং দুর্নীতির মাত্রা যেন আরও বাড়তে থাকছে। গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে এই দুর্নীতির পরিমাণ সর্বোচ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিয়রে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই জমিয়ে প্রচার শুরু করছে তৃণমূল। কিন্তু এই প্রচারে তাল কাটল যখন সম্প্রতি এক ফেসবুক ভিডিওতে তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধেই কাজ না করার ও টাকা নয়ছয় করার মত মারাত্মক অভিযোগ আনলেন দলেরই সাংসদ মহুয়া মৈত্র।

গতকাল একটি ফেসবুক ভিডিওতে কৃষ্ণনগরের এই সাংসদ গ্রাম পঞ্চায়েতের কাজকর্ম নিয়ে ক্ষোভের সঙ্গে পঞ্চায়েত প্রধান ও সদস্যদের রীতিমত তুলোধোনা করেন। তিনি ভিডিওতে পঞ্চায়েত প্রতিবছর কত কী টাকা পায় তা নিয়ে বিশদে জনগণকে বুঝিয়ে দেন। তিনি জানান, চতুর্দশ অর্থ কমিশন, Performance based Grant মিলিয়ে একটি গ্রাম পঞ্চায়েত বছরে গড়ে কম করে ১.২০ কোটি টাকা পায়। গ্রাম পঞ্চায়েতের অায়তন, জনসংখ্যা, পারফরম্যান্স এর ভিত্তিতে এই টাকার পরিমাণ অারও বেশি হয়। West Bengal Institutional Strengthening of Gram Panchayats বা ISGP পঞ্চায়েত হলে বছরে ২ কোটির বেশি টাকা মেলে। কিন্তু এই টাকা যাচ্ছে কোথায়? তিনি বিরক্তির সঙ্গে জানান, “আমি যখনই যাই এলাকায়, তখনই লোকে বলেন, “দিদি এই রাস্তাটা করে দিন, দিদি ওই রাস্তাটা করে দিন। এটা কেন? আমি সাংসদ হিসাবে ৮২টা গ্রাম পঞ্চায়েতের সবদিক দিয়ে উন্নয়নের জন্য ৫ কোটি টাকা পাই। সেখানে এক একটি গ্রাম পঞ্চায়েত ১ কোটি টাকা করে পাচ্ছে প্রতি বছর কিন্তু কাজ কেন হচ্ছে না?”

এরপরেই দ্বিতীয় বোমা ফাটান মহুয়া। “এখনও তো ৫ লাখ টাকার বেশি কাজই করতে পারেনি একাধিক পঞ্চায়েত আর তা সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত। কারণ সরকার থেকে যে নিয়ম করে দিয়েছে, ৫ লাখ টাকার কাজের পর ই-টেন্ডার ডাকতে হবে। সেই ই-টেন্ডারে না যাওয়ার জন্যেই ৫ লাখ টাকার উপর খরচই করেনি। পঞ্চায়েতগুলি ৩.৫ লক্ষ টাকার নীচে কাজ করতে চায়, কারণ ISGP ও ব্লক তার ঊর্ধ্বে রিভিউ করে।” সপাটে সমালোচনা করেন মহুয়া।

তিনি বলেন, প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসের মধ্যে অন্ততঃ ৬০% টাকা খরচ করার নিয়ম, বহু পঞ্চায়েত তা করতে পারেনি। অথচ এই বিপুল টাকা পরিকল্পনা মাফিক খরচ করলে গ্রামীণ এলাকায় কোন কাঁচা রাস্তা থাকার কথাই নয়, স্পষ্ট জানাচ্ছেন মহুয়া।

তাঁর এই পোস্টের পরেই হইচই পড়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। কমেন্টের বন্যা বয়ে যায় পোস্টে, মহুয়া উত্তরও দেন পোস্টে। সবাই ধন্য ধন্য করতে থাকেন সাংসদকে এইভাবে নির্ভীক হয়ে নিজের দলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে।

মহুয়া পঞ্চায়েতগুলিকে পরামর্শ দিয়েছেন, স্বচ্ছতার স্বার্থে প্রতি পঞ্চায়েতেই যেন ই- টেন্ডার ডাকা, ৩.৫ লক্ষ টাকার বেশি কাজ করা ও বড় সম্পদ তৈরি যেমন বড় রাস্তা, নিকাশি নালা, বর্জ্য অপসারণ কেন্দ্র, পানীয় জল এই সব দিকে নজর দেওয়া হয়। এই কাজগুলি একশো দিনের কাজের মধ্যেই করা যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজও পাবেন, উন্নয়নও হবে।

বিজেপি অবশ্য হাওয়া বুঝে মাঠে নেমে পড়েছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে, এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেছেন, “চোর এবং সার্কাসের দল তৃণমূল টাকা মেরে খেয়ে নিয়েছে। তাই গ্রাম অঞ্চলে কোনও উন্নতি হচ্ছে না। দুর্নীতিতে ভরে গেছে।”

এখন এই ভিডিও দেখে দল কী প্রতিক্রিয়া দেয় তাই দেখার কিন্তু কৃষ্ণনগরের সাধারণ মানুষ যে মহুয়াকে তাদের মসিহা ইতিমধ্যেই ভাবতে শুরু করেছেন তা সেই পোষ্টের কমেন্ট বক্সে একবার চোখ বোলালেই বোঝা যাবে।

RELATED Articles

Leave a Comment