Two TMC Leaders met Sovan Chatterjee: সম্প্রতি নবান্নের বৈঠকে হকার উচ্ছেদ নিয়ে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ফুটপাত দখল নিয়ে সেদিনের সেই বৈঠকে মমতা বেজায় ধমক দেন পুলিশ থেকে শুরু করে নেতা, মন্ত্রিসভা, পুরসভার লোকজনদেরও। এই নিয়ে বেশ ক্ষোভ জারি করেন ফিরহাদ হাকিম ও দেবাশিস কুমারের উপরেও। শহরে বেআইনি পার্কিং, হকার সমস্যা মেটাতে যে তারা ব্যর্থ, সেকথাও সেদিনের বৈঠকে বেশ ঠারে ঠারে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন মমতা।
ববি ও দেবাশিসদের উপর যখন মমতা এক প্রকার ক্ষাপ্পা হয়েই রয়েছেন, সেই সময় আবার ঘটে গেল আরও এক প্রাসঙ্গিক ঘটনা। মমতার দুই দূত আচমকাই হাজির হলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের গোলপার্কের ফ্ল্যাটে (Two TMC Leaders met Sovan Chatterjee)। কী বার্তা নিয়ে গেলেন তারা?
সূত্রের খবর, মমতার নির্দেশেই শোভনের গোলপার্কের ফ্ল্যাট যেখানে শোভন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে থাকেন, সেখানেই গিয়েছিলেন বিদ্যুৎ মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ (Two TMC Leaders met Sovan Chatterjee)। যদিও কুণাল ঘোষের কথায়, তারা এমনই আড্ডা দিতেই গিয়েছিলেন। কোনও বার্তা প্রেরণ করতে নয়। কিন্তু তাও সন্দেহের মেঘ যে কাটছে না! এই বিষয়ে যদিও শোভন চট্টোপাধ্যায়ও মুখে কুলুপ এঁটেছেন।
এই ঘটনা থেকেই অনেকের মনে হতেই পারে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হয়ত ফের নিজের ‘প্রিয় কানন’কে পুরসভার মেয়র হিসেবে ফেরাতে পারেন। কারণ কলকাতার মেয়র হিসেবে যে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা অনেকটা, তা অনস্বীকার্য (Two TMC Leaders met Sovan Chatterjee)। সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের পর যদি ‘ভালো মেয়র’-এর আখ্যা কেউ পেয়ে থাকেন, তা শোভনই। কিন্তু সত্যিই কী কাজটা এতটা সহজ হবে?
কারণ, ফিরহাদ হাকিম তৃণমূলের অন্যতম সংখ্যালঘু নেতা। ফলে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঝুঁকিটা হয়ত মমতা নেবেন না। যদিও ফিরহাদ যে দুটি পদে থাকুন, তা নাকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চান নি। একদিকে পুরমন্ত্রী আবার অন্যদিকে মেয়র দুই পদে ববিকে পছন্দ নয় অভিষেকের। কারণ তিনি এক ব্যক্তি এক পদে বিশ্বাসী। তবে শোভনকেও যদি ফের মেয়র পদে ফেরানো হয়, তাহলেও যে অভিষেক বিশেষ প্রসন্ন হবেন তা নয়। কারণ শোভনকে ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটের পর যেভাবে দমকল, পরিবেশ ও আবাসন দফতরের মন্ত্রী করা হয়েছিল, তাতে অভিষেকের আপত্তিই ছিল বটে। আবার সেই সময় শোভন মেয়রও ছিলেন (Two TMC Leaders met Sovan Chatterjee)।
তবে সূত্রের খবর, শোভনের তৃণমূলে ওয়াপসি নাকি এখন খালি সময়ের অপেক্ষা (Two TMC Leaders met Sovan Chatterjee)। দলে তাঁকে ফেরালেও শোভনকে পুরসভায় ফেরানো হবে কী না, তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এর বাইরেও যে শোভনের উপযোগিতা রয়েছে, তা ভোলার নয়। কারণ বেহালায় শোভনের সংগঠন শক্ত ছিল। তিনি দল ছাড়ার পর যে সেখানে তৃণমূল দুর্বল হয়েছে, তা বেশ স্পষ্ট। শোভনের স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায় বেহালা পূর্বের বিধায়ক হলেও শোভনের তুলনায় সাংগঠনিক ক্ষমতা কিছুই নয়। আবার বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায় এই মুহূর্তে জেলে। ফলে ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে বেহালায় যদি তৃণমূলকে শক্ত ঘাঁটি গড়তে হয়, তাহলে এর জন্য শোভন তুরুপের তাস। সেই কারণেই এবার নিজের প্রিয় কাননকে ফের দলে বরণ করার পথে মমতা!





