এমনিতে নানান সময় নানান ধরণের বিতর্কিত মন্তব্য (controversial comment) করে তিনি খবরের শিরোনামে উঠে আসেন। এর জেরে তাঁর দলকেও বেশ বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হয়। আর এবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে (Sukanta Majumdar) একেবারে মুখে উপর চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিলেন উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ (Udayan Guha)। বললেন, “আগামীকাল ভোট হোক, যে হারবে সে রাজনীতি ছেড়ে দেবে”।
দিনহাটা কাণ্ডের জেরে গতকাল, মঙ্গলবারই কোচবিহার গিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের কনভয়ে হামলার ঘটনায় তাঁর পাশে দাঁড়ান সুকান্ত। সেখানে গিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করার পাশাপাশি তোপ দাগেন উদয়ন গুহকেও। তাঁকে ‘কম্পার্টমেন্টাল বিধায়ক’ বলে কটাক্ষ করেন সুকান্ত। তাঁর সেই মন্তব্যেরই পাল্টা দিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উদয়ন বলেন যে এই মুহূর্তে যদি তাঁর বিরুদ্ধে ভোটে নামেন, তাহলে সুকান্তর পরাজয় নিশ্চিত।
সুকান্তের মন্তব্যের পর সাংবাদিক বৈঠক করে উদয়ন বলেন, “আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি। আমি বিধানসভা থেকে পদত্যাগ করছি। আর উনি লোকসভা থেকে পদত্যাগ করুন। আগামীকাল ভোট হোক। যদি আমি হারি তা হলে রাজনীতি ছেড়ে দেব। যদি উনি হারেন তা হলে ওকে রাজনীতি ছেড়ে দিতে হবে”।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার দিনহাটার বুড়িরহাটে ছিল মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের কর্মসূচি। সেই কর্মসূচিতে চলে হামলা। নিশীথকে কালো পতাকা দেখানোর পাশাপাশি তাঁর গাড়িতে পাথর হামলা করে তৃণমূল কর্মীরা। চলে বোমাবাজি-গুলি। এই ঘটনাকে কেন্দ্রক্রে বেশ উত্তাল হয় রাজ্য-রাজনীতি।
এই ঘটনার পর নিশীথ অভিযোগ করেছিলেন যে তাঁকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এই ঘটনায় বিজেপি কর্মীদেরই গ্রেফতার করে পুলিশ। এই ঘটনায় ধিক্কার জানানোর পাশাপাশি উদয়ন গুহকেও আক্রমণ শানান সুকান্ত। বলেন, “এখনও সময় আছে শুধরে যান। না হলে আমাদের এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যে তখন শুধরানোর সময় পাবেন না”। তিনি আরও বলেন, “মানুষের সমর্থন হারিয়ে ফেলেছেন উদয়ন। এখন যদি দিনহাটায় ভোট হয় তা হলে ৫০ হাজার ভোটে উনি হারবেন”।
এর পাল্টা দিয়ে উদয়ন বলেন, “জনসমর্থন নেই বলেই (সুকান্তের) ৬০-৭০টি গাড়ি নিয়ে এলাকা পরিদর্শন করতে বের হয়েছেন। সুকান্তবাবু কি প্রাইমারি স্কুলের হেড মাস্টারমশাই যে আমাকে শেখাবেন কী ভাবে শুধরে যেতে হবে? আগে নিজেরা শুধরে যান। তার পর অন্যদের শেখাবেন”।





