সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। আর তা নিয়ে এখন শাসক-বিরোধী, উভয়েরই প্রস্তুতি তুঙ্গে। তবে তারই মাঝে শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতির জেরে শাসক দল কিছুটা ব্যাকফুটে। তৃণমূলের একাধিক নেতার নাম জড়িয়েছে এই দুর্নীতিতে। আর এর জেরে অনেক তৃণমূল নেতাই এখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। এর জেরে অস্বস্তি তো রয়েছেই শাসক দলের মধ্যে।
আর শাসক দলের এই অস্বস্তি যে বিরোধীদের বাড়তি অক্সিজেন যোগাচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে পদে পদে তৃণমূলকে কটাক্ষ করতে কসুর করছে না বিজেপি বা অন্যান্য বিরোধী দল। এবার শিবরাত্রির দিন ভূতনাথ মন্দিরে পুজো দিয়ে গিয়ে এই নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে রাজ্য সরকারকে তোপ দাগলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
এদিন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, “রাজ্য সরকারের সব থেকে বড় অপরাধ তারা সরস্বতীর পুণ্যভূমিতে শিক্ষাকে কেন্দ্র করে সবরকম দুর্নীতি করেছে। শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, পড়ুয়াদের জন্য আসা মিড ডে মিলের টাকায় দুর্নীতি। বাংলার মানুষ ক্ষমা করবে না। তদন্ত চলছে। সব সামনে আসতে চলেছে”।
এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এও স্পষ্ট করে জানান যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের বারবার বাংলায় আসার কারণ ঠিক কী! তাঁর কথায়, “২০১৯ সালের থেকে বিজেপির প্রতি বাংলায় বেশি উৎসাহ নজরে পড়ছে। তাই আমরাও আগের থেকে বেশি বাংলায় আসছি। রাজ্য সরকারের দুর্নীতির কারণে প্রধান বিকল্প হিসেবে বাংলার মানুষ বিজেপির সঙ্গে থাকছে”। এদিন রাজ্যবাসীকে শিবরাত্রির শুভেচ্ছাও জানান তিনি।
যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এহেন মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছে তৃণমূল। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বিজেপিকে পাল্টা তোপ দেগে বলেন, “উত্তরপ্রদেশে শিক্ষাক্ষেত্রে একাধিক দু্র্নীতির সন্ধান পেয়েছে ইডি। বাংলায় কোনও দুর্নীতি হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। আমরা তদন্তকারী সংস্থাকে সাহায্য করি। আগামী দিনেও করব। কিন্তু বিজেপি শাসিত রাজ্যে কী হচ্ছে, তা ধর্মেন্দ্র প্রধান জানেন”? তবে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে যে বাংলার শাসক দল বেশ চাপের মুখে রয়েছে, তা আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।





