রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ ছুঁইছুঁই। সংখ্যাটা ধীরে ধীরে বাড়ছে। মারা গিয়েছেন তিনজন। লকডাউন চলছে গোটা রাজ্যে। অসুবিধার মুখে পড়েছেন গরীব মানুষ। অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দোকান খোলা থাকবে বলা হলেও সব দোকান খোলা নেই। অন্যদিকে, যে কটি দোকান খোলা থাকছে সেখানে উচ্চবিত্ত মানুষরা গিয়ে আগেভাগেই সব কিনে ফেলছেন। ফলে নিম্নবিত্ত মানুষদের জন্য কিছুই পড়ে থাকছে না। এমতাবস্থায়, গরীব দিন আনি দিন খাই মানুষেরা পড়েছেন ফাঁপরে।

এবার এইসকল মানুষকে সাহায্য করার জন্য পথে নামল ‘উপলব্ধি ভারত’। দমদমে অবস্থিত এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি নিজ উদ্যোগে লোকের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। সারা বাংলা জুড়ে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে আছে এদের স্বেচ্ছাসেবক।
এখনও পর্যন্ত ১৩ হাজার পরিবারের কাছে খাবার পৌছে দিয়েছে এই সংস্থা। বয়স্ক কেউ একা থাকলে তাঁদের খোঁজ রাখা, ওষুধ পাঠিয়ে দেওয়ার কাজও করছে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক রাজদীপ,পুলক, শানু, অভিজিৎ, উত্তম, প্রিয়াংকা, রাজপুত্র, পিকু, রাকেশ, শুভ-রা।
এছাড়াও এঁরা হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং মাস্ক বানানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছে। আগামী দুদিন রাজ্যে এরা নিজেরাই স্যানিটাইজার ও মাস্ক পাঠাবে মানুষের কাছে, একদম বিনামূল্যে।

এই সংস্থাটি কলকাতাতে কাজ তো করছেই। সেইসঙ্গে বিভিন্ন জেলায় এদের স্বেচ্ছাসেবকরা দিনরাত খেটে চলেছেন। এরা গরীব মানুষের বাড়িতে চাল, আলু, পেঁয়াজ, ডিম পৌঁছে দিচ্ছে। এই সংস্থার স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, গরীব ও দুস্থদের বাড়িতে বাচ্চাদের পুষ্টির কথা মাথায় রেখেই ডিমের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে এই বিপদের সময়ে বাড়ির শিশুরা সুস্থ থাকে।
এই তরুণ তুর্কিরাই তো দেশের ভবিষ্যত। এরা এগিয়ে না আসলে আগামী প্রজন্ম ভাল থাকবে কী করে? তাই আপনিও সাধ্যমত এদের পাশে থাকুন। বাঁচবে সমাজ, বাঁচব আমরা।

সবথেকে বড় কথা, এখনো এরা নিজেরাই নিজেদের টাকা দিয়ে এই কাজ চালাচ্ছেন। এখনও পর্যন্ত কারোর থেকে সাহায্য নেওয়া হয়নি সংগঠনের তরফে। কিন্তু সাধারণ মানুষ যদি এগিয়ে এসে কিছু দান করেন তারজন্য এই সংস্থার সদস্যরা 8372899933 এই নম্বরে গুগল পে, ফোনপে-এর মাধ্যমে ইউপিআই ট্রান্সফার করার সুবিধা রেখেছেন। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি যদি আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন তবে এরা এই কাজগুলিকে আরও ভালভাবে এবং বড় ভাবে করতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থার স্বেচ্ছাসেবকরা।





