পৌষমেলার মাঠকে পাঁচিল দিয়ে ঘেরা নিয়ে সকাল থেকে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে বিশ্বভারতী প্রাঙ্গণ। আজ সকালে মাঠের পাঁচিল ও দরজা ভেঙে দেয় কিছু মানুষ। এরপর এই ঘটনা প্রসঙ্গে টুইট করে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় জানান তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সাথে এ বিষয়ে কথা বলবেন এবং বিশ্বভারতীতে দ্রুত শান্তি ফেরানোর চেষ্টা করবেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রী এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, সৌন্দর্য নষ্ট করে মেলার মাঠে কিছু নির্মাণ হোক তা তিনি চান না।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে নবান্নে এক সংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্ত। এখনো অবধি রাজ্যপালের সাথে কথা বলার পরে আমি খোঁজ নিয়ে যে টুকু জানতে পেরেছি যে, সেখানে নির্মাণ কাজ চলছিল। ওখানে কিছু বহিরাগত উপস্থিত ছিল। তবে তাদের উপস্থিত থাকাটা কাম্য ছিল না। সেখানে কোনো একটা কনস্ট্রাকশনকে প্রটেকশন দেওয়ার কাজ চলছিল কিন্তু বোলপুরের মানুষজন সেটা পছন্দ করেননি। পাশাপাশি সেখানকার শিক্ষার্থীরাও এর প্রতিবাদ করেন। এই ঘটনা যখন আমার কানে আসে আমি পুলিশকে বলি ডিএমের সাথে এ বিষয়ে একটা মিটিং করতে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে বলেছি তাঁর কোনো সমস্যা থাকলে ডিএমকে জানাতে। এই ঘটনাটি শান্তিপূর্ণভাবে মিটে যাবে বলে আমি আশা করছি। তবে আমি চাই না সেখানে কোনো নির্মাণকাজ হোক। প্ৰকৃতির দান যে লালমাটি, তাকে একটা কনস্ট্রাকশন ঢেকে দিক সেটা আমি চাই না। মনে রাখবেন কনস্ট্রাকশন সর্বদা সৌন্দর্যের বার্তা বহন করে না।”
প্রসঙ্গত, শনিবার বোলপুর ব্যবসায়ী সমিতি মেলা প্রাঙ্গনকে ঘিরে ফেলার কাজ বন্ধ করে দেয়। এরপর রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উপস্থিতিতে বিশ্বভারতীর অঙ্গন থেকে মেলার মাঠে পাঁচিল দেওয়ার জন্য জেসিবি দিয়ে গর্ত করার কাজও শুরু হয়। অন্যদিকে এই খবর কানে যেতেই শান্তিনিকেতন বাঁচাও কমিটি এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতির মানুষ ক্ষেপে গিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে যান। তবে উপাচার্য তাদের সাথে দেখা করেননি। এরপরই সোমবার সকালে জেসিবি চড়ে ঘটনাস্থলে আসেন কিছু মানুষ। এমনকি জেসিবি মেশিন দিয়ে ভেঙে ফেলা হয় পাঁচিল এবং দরজা, এমনকি অস্থায়ী অফিস ও নির্মাণ সরঞ্জাম।





