মাথার উপরে ঘরের ছাদ ভাঙা। বাইরের দালানে বসেই পড়াশোনা চলছে খুদেদের। সেই দালানের পাশেই শুকোচ্ছে ঘুঁটে। দুপুরে মিড ডে মিল খাবার সময় সেই শুকনো ঘুঁটের পাশে বসেই খাবার খেতে হয় কচিকাঁচাদের। অস্বাস্থ্যকর এই পরিবেশের মধ্যেই চলছে পড়াশোনা, রান্না, খাওয়াদাওয়া।
কোথায় ঘটেছে এমন ঘটনা?
এর আগেও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, মিড ডে মিল নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে। কখনও খাবারে আরশোলা, পোকা, টিকটিকি, মরা সাপ পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে তো কখনও আবার পোকাধরা চাল দিয়ে বাচ্চাদের খাবার রান্না করার অভিযোগ উঠেছে। এবার ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চালানোর অভিযোগ উঠল। এই অভিযোগ উঠেছে মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা-১ ব্লকের মাংরুল গ্রামপঞ্চায়েতের ১৬২ নম্বর বেউড়গ্রাম মাঝিপাড়া আইসিডিএস সেন্টার থেকে।
জানা গিয়েছে, বর্তমানে এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ৬২ জন পড়ুয়া রয়েছে। এই ধরণের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। তাদের কথায়, “ঘর নেই। বাথরুম পায়খানা নেই। বৃষ্টি হলে তো রান্না হয় না। শুকনো খাবার দিয়ে দেয়। বাচ্চাদের পাঠাব কোন ভরসায়? ছাদের এই হাল। কিছু ভেঙে পড়লে কী বিপদ হবে”।
এমন ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দেন ওই কেন্দ্রে রান্না করা রাঁধুনিও। তিনি বলেন, “চাপা দিয়ে রান্না করি। যতটা সাবধানে কাজ করা যায় তা-ই করি। ছাদের অবস্থাও তো খুবই খারাপ। যে কোনও সময় মাথার উপর ভেঙে পড়তে পারে। বাচ্চাদেরও বিপদ হতে পারে। একটা ভালো পরিবেশ তো দরকার। একটা ভালো ঘর করে দিলে ভালো হয়”।
এই প্রসঙ্গে মাংরুল গ্রামপঞ্চায়েতের উপপ্রধান শান্তনু মুখোপাধ্যায় বলেন, “এর আগে গ্রামপঞ্চায়েত প্রধান আমিই ছিলাম। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে ৫টা নতুন আইসিডিএস বানাই। সেই সময় এখানকার জন্যও প্রস্তাব পাঠাই। মান্যতাও পায়। তবে জায়গার অভাবে করে উঠতে পারিনি। নতুন করে বিডিওর কাছেও পাঠিয়েছি”।





