‘আমাদের সবার পকেটে ব্লেড রয়েছে’, ত্রিপুরার পুলিশকে শাসানি দেবাংশুর, তুমুল ভাইরাল সেই ভিডিও

বাংলায় তৃতীয়বার ক্ষমতা জয়ের পর এবার তৃণমূল নেত্রীর লক্ষ্য দিল্লির মসনদ। এই কারণে তাঁর দল নানান রাজ্যে তৃণমূল সংগঠন গড়তে ব্যস্ত। এর শুরু হয় ত্রিপুরা দিয়েই। সেখানে বিপ্লব দেবকে হটিয়ে শাসন প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যত তৃণমূল।

কিন্তু ত্রিপুরায় পৌঁছনোর পর থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনতে থাকে তৃণমূল। ত্রিপুরায় গিয়ে বক্তব্য রেখেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গিয়েছেন কুণাল ঘোষ। এছাড়াও গিয়েছেন যুবনেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য, জয়া দত্ত ও সুদীপ রাহা।

এরই মধ্যে গত শনিবার এই যুবনেতাদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ত্রিপুরার আমবাসায় দেবাংশু-জয়া-সুদীপের গাড়িতে হামলা চালানো হয়। তাদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এর জেরে সুদীপের মাথা ফেটে যায় বলেও অভিযোগ তৃণমূলের। দেবাংশুর দাবী, বিজেপির লোক যখন তাদের উপর হামলা করছিল, সেই সময় ত্রিপুরার পুলিশ চুপচাপ দাঁড়িয়ে তা দেখছিলেন, তাদের আটকানোর চেষ্টা করেন নি তারা। এমনকি, পুলিশকে ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ বলেও দেগেছেন দেবাংশু।

আরও পড়ুন- ইতিহাস ঘাঁটলেই দেখা যাবে বন্দুক দেখিয়ে ভোট জয় করা যায়, ফের বিতর্কিত মন্তব্য তৃণমূল বিধায়কের

শুধু তাই-ই নয়, ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে পুলিশকে শাসানি দিয়ে দেবাংশুকে এও বলতে শোনা যায় যে তাদের সকলের পকেটে ব্লেড রয়েছে, তারা সেখানেই সুইসাইড করবেন। কিন্তু এবার প্রশ্ন উঠছে, এমন মন্তব্য কেন করলেন দেবাংশু। কেনই বা চিৎকার করে পুলিশকে এই শাসানি? তা অবশ্য জানা যায়নি। তবে দেবাংশুর এই ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়ে যায়।

শনিবার এমন কাণ্ডের পর রবিবার সকালে তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতার করেন ত্রিপুরার পুলিশ। এরপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, ব্রাত্য বসু, দোলা সেন ত্রিপুরায় পৌঁছন। রাতে জামিন পান তৃণমূল নেতারা। এরপর বিশেষ বিমানে কলকাতায় আসেন তারা। সোজা তাদের নিয়ে যাওয়া হয় এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য।

এরপর গতকাল, সোমবার তৃণমূল যুবনেতাদের সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাদের সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্‌’র নির্দেশেই এই হামলা হয়েছে। মমতার দাবী বিপ্লব দেবের এত সাহস নেই।

RELATED Articles