নভেম্বর পেরিয়ে গিয়ে ডিসেম্বর পড়ে গিয়েছে কিন্তু শীতের দেখা নেই বঙ্গে। শুধু কী তাই, এখনও দিনের বেলায় হালকা গরম অনুভূত হচ্ছে। কেউ কেউ তো এখনও ফ্যানও চালাচ্ছেন। হাওয়া অফিস জানিয়েছিল বটে যে এবার শীত একটু দেরিতেই পড়বে। কিন্তু এখন বঙ্গবাসীর মনে একটাই প্রশ্ন, সেই দেরিটা কবে? কবে বেশ জাঁকিয়ে ঠাণ্ডা পড়বে রাজ্যে?
কী জানাল আবহাওয়া দফতর?
বঙ্গে শীত নিয়ে কোনও আশানুরূপ বার্তা দিতে পারল না আলিপুর আবহাওয়া দফতর। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, এখনই বঙ্গে শীত পড়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। বরং আগামী দু-তিনদিনে আবার উল্টে তাপমাত্রা বাড়তে পারে। আগামী ৪ ডিসেম্বর থেকে আবহাওয়া একটু একটু করে পরিবর্তন হবে। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শীত পড়া শুরু হতে পারে বঙ্গে।
কেন এমন অবস্থা আবহাওয়ার?
আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন আন্দামান সাগর এলাকায় যে নিম্নচাপ তৈরি হয়েছিল, শুক্রবারই উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়েছে। গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে সেটি। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, নিম্নচাপটি শনিবার ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেওয়া হয়েছে মিগজাউম। পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে এই অভিমুখ থাকতে পারে। ইতিমধ্যেই ওড়িশা সরকার নিম্নচাপ এবং সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় নিয়ে সাতটি উপকূলীয় জেলাকে সতর্ক করেছে।
বালাসোর, ভদ্রক, কেন্দ্রাপাড়া, জগৎসিনপুর, পুরী, খুড়দা এবং গঞ্জামের জেলাশাসকদের সবরকম প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। আগামী কয়েক দিন ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে পারে সমুদ্র। রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। এই সময় মৎসজীবীদেরও গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় কোথায় আছড়ে পড়বে, তা এখনও জানা যায়নি। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, এই নিম্নচাপ শনিবার বঙ্গোপসাগরেই ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে। অনুমান করা হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড় মিগজাউম আছড়ে পড়তে পারে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল থেকে বাংলাদেশে উপকূলের কোনও একটি জায়গায়।





