আর জি কর কলেজ ও হাসপাতালে (Rgkar college and hospital) মৃত তরুণী পড়ুয়ার ঘটনা রীতিমতো কাঁপিয়ে দিয়েছে রাজ্য (West Bengal) তথা দেশের মানুষকে। একজন নারী যে কিনা তার কর্মস্থলেই নিরাপদ নয়!তাহলে নারীরা আসলে কোথায় নিরাপদ? এই প্রশ্ন আবারও ঘুরে ফিরে উঠে এসেছে! এই ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে রাজ্য পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে সিভিক ভলেন্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে (Sanjay Rai)। সম্প্রতি পলিগ্রাফ টেস্টে (polygraph test) বিস্ফোরক দাবি করেছে সঞ্জয়।
আর জি কর কলেজ ও হাসপাতালের এই ঘটনায় নির্যাতিতার ভয়াবহ পরিণাম ও নৃশংস খুনের ঘটনায় সাধারণ মানুষ থেকে চিকিৎসকরা পথে নেমেছেন বারংবার। নির্যাতিতার ন্যায় বিচারের দাবিতে চিকিৎসকরা বহাল রেখেছেন কর্মবিরতি। তারকাদের মধ্যে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী মমতাশঙ্কর থেকে শুরু করে তনিমা সেন প্রশ্ন করেছেন রাজ্য প্রশাসনকে।
একই সাথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে পথে নেমেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও নাম না করে একটি মঞ্চ থেকে বলেছেন যে, মেয়েদের উপর কোনও অন্যায় অত্যাচার তিনি সহ্য করবেন না। এভাবে আর জি কর কাণ্ডে উত্তাল হয়ে আছে রাজ্য রাজনীতির পরিস্থিতি। ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশের হাত থেকে তদন্তভার নিয়ে নিয়েছে সিবিআই। তবে এখনও অবধি আর কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। সম্প্রতি পলিগ্রাফ টেস্টে বিস্ফোরক দাবি করেছেন সঞ্জয় রায়!
সঞ্জয় বলেছেন যে, আরজিকর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসককে সে খুন করেনি, সে যখন সেই রুমে পৌঁছায় তখন সে চিকিৎসককে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। রবিবার প্রেসিডেন্সি জেলে সঞ্জয় রায়ের পলিগ্রাফ টেস্ট করেন সিবিআই এর বিশেষজ্ঞরা। যেখানে এই চাঞ্চল্যকর দাবী করেছে অভিযুক্ত। তবে সঞ্জয় সত্যি কথা বলেছেন কিনা তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
নানান রকম তথ্য প্রমাণ দেখিয়ে সঞ্জয় রায়কে একাধিক প্রশ্ন করা হয় পলিগ্রাফ টেস্টে। সিবিআই আধিকারিকরা এই প্রশ্ন করেন। সি বি আই দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পলিগ্রাফ টেস্টের সময় উদ্বিগ্ন ছিলেন সঞ্জয়। এমনকি একাধিক প্রশ্নের উত্তরে তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করবার চেষ্টাও করেছেন। অনেকেই জানেন যে, গ্রেফতারির পর সঞ্জয় পুলিশের জেরায় তরুণী চিকিৎসককে খুনের কথা স্বীকার করেছিলেন। তবে এইদিন পলিগ্রাফ টেস্টে তিনি জানান যে, তরুণী চিকিৎসককে সে খুন করেনি।
উল্লেখ্য ময়না তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী নির্যাতিতার দেহে ১৬টি বাহ্যিক ও ৯ টি অভ্যন্তরীণ ক্ষত পাওয়া গিয়েছে, নির্যাতিতার যোনি আর ঠোঁটে ক্ষত পাওয়া গেছে। একই সাথে মনোবিদরা সঞ্জয়কে পরীক্ষা করে বলেছেন যে, তার মধ্যে পাশবিক প্রবণতা রয়েছে। তবে উল্লেখ্য, পলিগ্রাফ কোন সত্য মিথ্যা নির্ণায়ক পরীক্ষা নয়। ধৃতের পলিগ্রাফ টেস্ট করা হয় উত্তর দাতা কিছু গোপন করার চেষ্টা করেছেন কিনা সেটা দেখার জন্য। তবে সঞ্জয়ের এই বিস্ফোরক দাবি রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে সে কথা বলাই বাহুল্য।





