রঙিন মণীশ শুক্লর রাজনৈতিক জীবন! কিভাবে উঠে আসেন রাজনীতির আঙিনায়?

গতকালই খুন হয়েছেন তৃণমূল থেকে আসা বিজেপি নেতা অর্জুন সিং (Arjun Singh) -এর ডানহাত হিসেবে পরিচিত মণীশ শুক্লা (Manish Shukla)। শরীর ফুঁড়ে ঢুকে গেছে বারোটি বুলেট। তবে অর্জুন সিং এর মতই রঙিন নিহত এই বিজেপি নেতার রাজনৈতিক জীবন‌ও।

মণীশ শুক্লা নিজেও তৃণমূল ত্যাগ করে অর্জুনের হাত ধরে বিজেপিতে ঢুকে ছিলেন। বারাকপুরের এই বিজেপি নেতার মৃত্যুতে এখন কার্যত থমথমে হয়ে রয়েছে গোটা শিল্পাঞ্চল।একাধারে দাপুটে, প্রভাবশালী এই নেতার মৃত্যুতে রাগে, ক্ষোভে, জ্বলছে টিটাগড় (Titagarh)। মণীশ শুক্লার হত্যাকাণ্ড নিয়ে রীতিমত উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে ওই এলাকা। যার মৃত্যুতে হঠাৎ করেই বঙ্গ রাজনীতিতে এত জোর আলোচনা শুরু হয়েছে সেই মনীশ শুক্লা আদতে কে? কেনই বা তার মৃত্যু ঘিরে এত চাঞ্চল্য?

এত‌ই বা কি ক্ষমতাধর ব্যক্তি যাঁকে মারতে নিয়োগ করা হল পেশাদার খুনি? বলা বাহুল্য বঙ্গ রাজনীতির মানচিত্রে এই মনীশ শুক্লা দেশ পরিচিত এবং পুরনো নাম। বর্তমানে এই ব্যক্তিই ছিলেন অর্জুন সিংয়ের ‘ডান হাত’। ঢাল হয়ে দাঁড়াতেন অর্জুনের যে কোন‌ও বিপদে। ছিলেন বারাকপুরের বিজেপির স্ট্রংম্যান।

বারাকপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনীতিতে মণীশের দর দীর্ঘদিনের। আদতে খড়দহের বাসিন্দা। বাম জমানার প্রায় শেষাশেষি তড়িৎ তোপদারের (Tarot Topadar) হাত ধরে রাজনীতিতে হাতে খড়ি। ব্যারাকপুর রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজেক ছাত্র সংসদের নির্বাচনে যুবনেতা হিসাবে পরিচিতি পান মণীশ শুক্লা।

এরপরই, সিপিএম ছেড়ে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের নেতা হিসাবে গোটা শিল্পাঞ্চলেই নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন মণীশ। পরবর্তীতে ভাটপাড়ার সেই সময়কার তৃণমূল বিধায়ক অর্জুন সিংহের ঘনিষ্ট বলে পরিচিত হন। এরপর অর্জুনের হাত ধরেই পদ্মশিবিরে যোগ দেন মণীশ।স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন মণীশ ‌ বড় মস্তান, কখনও প্রভাবশালী ব্যক্তি বা কখনও গণ্যমান্য ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

গতকাল অর্থাৎ রবিবার‌ও গোটা দিন তিনি ছিলেন অর্জুন সিং এর সঙ্গেই। এরপর অর্জুন বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় সঙ্গে দেখা করার জন্য বেরিয়ে গেলে সন্ধ্যা সাড়ে ৮টা নাগাদ টিটাগড় থানার কাছে একটি চায়ের দোকানের সামনে চা খাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন মণীশ। ঠিক তখনই মোটর সাইকেলে চেপে আসা চার আততায়ী খুব কাছ থেকে একের পর এক গুলি করে মণীশকে লক্ষ্য করে। বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

RELATED Articles

Leave a Comment