দাম্পত্য জীবনে টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়। পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, পারিবারিক কলহ—এমন নানা কারণে অনেক সম্পর্ক ভেঙে যায়। সাধারণত মহিলাদের নির্যাতনের কাহিনী সামনে আসে বেশি, কিন্তু পুরুষরাও যে মানসিক যন্ত্রণার শিকার হন, তা অনেক ক্ষেত্রেই আড়ালে থেকে যায়। স্বামী নির্যাতনের ঘটনা সমাজে বড় হয়ে উঠলেও, অধিকাংশ সময় পুরুষরা তা প্রকাশ করতে ভয় পান বা লজ্জাবোধ করেন। ফলে, এই নির্যাতন তাদের মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে, যা কখনও কখনও আত্মহননের মতো চরম পরিণতি ডেকে আনে।
সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা সামনে এসেছে, যা আবারও স্বামী নির্যাতনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। গত কয়েক মাসে একাধিক পুরুষ তাদের স্ত্রীর অত্যাচারে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকদিন আগেই দিল্লির মানব শর্মা স্ত্রীর বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আত্মহত্যা করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ভিডিও বার্তা ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। মানব শর্মা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, পুরুষদের কথাও সমাজের ভাবা উচিত। এবার বাংলায় ঘটল আরও এক মর্মান্তিক ঘটনা, যা এই বিতর্ককে আরও জোরালো করে তুলেছে।
নদিয়ার কৃষ্ণনগরের হাতারপাড়ার বাসিন্দা রাজকুমার সাধুকা আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর স্ত্রী জিনিয়ার দাবি, স্বামীকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তিনি নিজেই হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু চিকিৎসকরা জানান, রাজকুমারকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। রাজকুমারের বাবার অভিযোগ, স্ত্রীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরেই তাঁর ছেলে এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, জিনিয়া দীর্ঘদিন ধরে রাজকুমারের উপার্জনের সমস্ত টাকা নিয়ে নিতেন এবং বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতন করতেন। ফলে, এই মানসিক চাপ আর নিতে পারেননি রাজকুমার।
আরও পড়ুনঃ একই ব্যক্তি দুই জায়গায় ভোটার! তৃণমূল নেত্রী শেফালি খাতুনের নামে ভোট কারচুপির বিস্ফোরক তথ্য ফাঁ’স!
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, রাজকুমার মৃত্যুর আগে একটি মেসেজ পাঠিয়েছিলেন, যেখানে তিনি আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। তবে তিনি সরাসরি কাউকে দোষারোপ করেননি। পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জিনিয়াকে আটক করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত জিনিয়ার বক্তব্য সামনে আসেনি, তবে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। এই ঘটনায় স্বামী নির্যাতনের বিষয়টি আরও একবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।
রাজকুমার-জিনিয়া দম্পতির একমাত্র সন্তান উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। বাবার এমন চরম সিদ্ধান্ত তার মানসিক অবস্থায় গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর স্বামী নির্যাতন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার ঝড় উঠেছে। সমাজ কি এবার শুধু নারীদের নয়, পুরুষদের কথাও ভাববে? নির্যাতিত স্বামীদের জন্য কি কোনও নির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষা থাকা উচিত? এই প্রশ্নগুলিই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।





