‘বউমা দেখতে সুন্দর, তাই বাইরে রেখে এসেছি, ওরা দেখলেই তো তুলে নিয়ে যায়’, নির্যাতনের কাহিনী শোনালেন সন্দেশখালির মহিলা

এখন খবরের শিরোনামে শুধুই সন্দেশখালি। প্রত্যন্ত এই অঞ্চলের মহিলারা তৃণমূল নেতাদের উপর উগড়ে দিয়েছেন দীর্ঘদিনের ক্ষোভ। তাদের উপর হওয়া শ্লী’ল’তা’হা’নি, শারীরিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তারা। হাতে লাঠি, বাঁশ নিয়ে শেখ শাহজাহান ও তাঁর দুই সাগরেদ উত্তম সর্দার ও শিবু হাজরার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা।

জমিবাড়ি কেড়ে নেওয়া তো বটেই, শাহজাহান, উত্তম, শিবুদের বিরুদ্ধে শ্লী’ল’তা’হা’নি, শারীরিক অত্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন সন্দেশখালির মহিলারা। রাতবিরেতে মাহিলাদের পার্টি অফিসে তুলে নিয়ে যাওয়া হত বলে দাবী করেছেন তারা। সুন্দর দেখতে কোনও বৌকে দেখলেই তুলে নিয়ে যেত উত্তম-শিবুরা এমনটাই অভিযোগ।    

সন্দেশলখালির এক বাসিন্দা আরতি পাত্র জানান, “আমরা কোনও রকমে বেঁচে আছি। প্রতিদিন অত্যাচার হয়। এই এখন কথা বলছি তাই যদি ওদের চ্যালারা দেখে রাত্রিবেলা দেখে কী করবে জানি না”।

নারী নির্যাতনের অভিযোগও তোলেন আরতি দেবী। বলেন, “আমার বড় বৌমা আর আমার বড় ছেলে এখানে থাকে না। বড় বৌমাকে দেখতে সুন্দর। দেখতে পেলেই তো তুলে নিয়ে যাবে। তার জন্য আমার বৌমাকে এখানে রাখিনি”। আরও বলেন,  “ওদের চোখে ভাল কেউ যদি পড়ছে সেই রাতেই তুলে নিয়ে যাবে”।

নারী নির্যাতন তো রয়েছেই, আরতি দেবী এও জানান যে সন্দেশখালিতে ভোটই হয় না। গত ১৩ বছর ধরে ভোট দেন নি সন্দেশখালির মানুষ। আরতি দেবী জানান, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তিনি বিজেপির হয়ে ভোটে দাঁড়ানোর কথা ভেবেছিলেন, কিন্তু তা আর হয়নি।

আরতি দেবীর কথায়, তিনি বিজেপির হয়ে মনোনয়ন তুলতে গেলে, তাঁকে মারধর করা হয়। এমনকি, ভোটে দাঁড়াতে চাওয়ায় তাঁর কাছে সাদা থান পাঠানো হয়েছিল। শিবু হাজরা, উত্তম সর্দার, শাহজাহানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন তিনি।

আরতি দেবী বলেন, “এখানে তো ভয় দেখিয়ে ভোট হয়। আমায় বলল ভোটে দাঁড়ানোর ইচ্ছা থাকলে সাদা থান দেব। শাহজাহান-শিবু-উত্তমরা তো তিনটে মাথা। ওদের চ্যালা আছে অনেক। আজ প্রায় ১৩ বছর ভোট দিতে পারিনি। লোক ডেকে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর কালি লাগিয়ে দেয়। পুলিশ তো সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। ভিডিও গেম খেলে। ভোট দিতে পারছি না দেখেও মুখ কথা নেই”।

RELATED Articles