দুই সন্তান ছিল তাঁর। তারপরও অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন মহিলা। এর জেরে লোকলজ্জার ভয়ে গর্ভপাতের ওষুধ খেয়েছিলেন বছর ৩১-এর বিলকিস বিবি। সেই ওষুধ খেয়েই মৃত্যু হল ওই মহিলার। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবারে। দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে ঘটনাটি।
কী ঘটেছিল ঘটনাটি?
ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন থানার হজরতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের জমিন কড়ইতে। স্থানীয় সূত্রে খবর, বিলকিস বিবির দুই সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে নবম শ্রেণীতে পড়ে আর ছোটো ছেলের বয়স এক বছর। তাঁর স্বামী বাবু সরকার পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক। মাস দেড়েক আগেই গোয়ায় গিয়েছিলেন তিনি কাজের জন্য। তবে সপ্তাহখানেক আগে স্ত্রীর অসুস্থতার খবর পেয়ে বাড়ি ফেরেন।
কিছুদিন আগেই নিজের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন বিলকিস। স্বামীকে জানান ঘটনাটি। তারা সিদ্ধান্ত নেন যে গ্রামীণ চিকিৎসক দেখিয়ে গর্ভপাত করাবেন। সেই মতোই সপ্তাহখানেক আগে স্থানীয় এক চিকিৎসক দেখিয়ে গর্ভপাতের ওষুধ খেয়েছিলেন বিলকিস। কিন্তু সেই ওষুধ খাওয়ার পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি, এমনটাই অভিযোগ। গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। গত মঙ্গলবার সকালে খানিকটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন বিলকিস।
কিন্তু বাড়ি ফেরার পর বিকেলে ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন বিলকিস। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতে তাঁকে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
কী জানাচ্ছে বিলকিসের পরিবার?
বিলকিসের দেওর জয়দুর সরকার বলেন, “আমি একটু দূরে থাকি। এসব বিষয়ে কিছু জানি না। হঠাৎ কাল রাতে ফোন করে বলে বৌদি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির ব্যবস্থা করে দিই। বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলেই চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করে। পরে জানতে পারি গর্ভপাত করানোর ওষুধ খাওয়ার বিষয়টি। তবে পুরো বিষয়টি আমার জানা নেই”।
স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা দিপালী বর্মণ বলেন, “প্রায় প্রতিদিনই বিলকিসের সঙ্গে তার দেখা হত। পঞ্চায়েত সদস্যর পাশাপাশি আমি একজন স্বাস্থ্য কর্মী। অতএব আমাকে এইটা বলতেই পারত। আমাকে বিষয়টি বললে পরেই এই সমস্যা হত না”।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুদীপ দাস বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এমন ঘটনা ঘটে থাকলে ওই এলাকায় এনিয়ে সচেতনতামূলক শিবির করা হবে। আগামী দিনে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে”।





