সন্দেশখালি নিয়ে বিতর্কের কোনও অন্ত নেই। জমি বাড়ি লুঠ থেকে শুরু করে মহিলাদের শ্লী’ল’তা’হা’নি, তাদের উপর শারীরিক নির্যাতন এমন নানান ঘটনার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন শেখ শাহজাহান ও তাঁর সাগরেদ উত্তম সর্দার ও শিবু হাজরা। কিন্তু সন্দেশখালির নির্যাতিতাদের দাবী তাদের দুরাবস্থা কাটে নি।
এসবের মাঝেই নারী দিবসের প্রাক্কালে গত বৃহস্পতিবার একটি মিছিল করে তৃণমূল। সেই মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি পঙ্কজ জানার স্ত্রী নীলিমা জানা। সেদিন সেই মিছিল থেকে তিনি দাবী করেন, সন্দেশখালির অবস্থা নাকি এখন ভালো। তাঁর এহেন মন্তব্যেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন সন্দেশখালির মহিলারা।
সন্দেশখালির মহিলাদের দাবী, নীলিমা জানা এক নম্বর ব্লকের বাসিন্দা আর সন্দেশখালির ঘটনা দু’নম্বর ব্লকের। তাহলে তিনি সন্দেশখালির বাসিন্দা না হয়ে কেন সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বললেন। আর সন্দেশখালির অবস্থা এখন ভালো আছে, তেমন বার্তাই বা কেন দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে? এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল, শুক্রবার নীলিমার বাড়ি ঘেরাও করেন সন্দেশখালির মহিলারা।
নারী দিবসের প্রাক্কালে গত বৃহস্পতিবার নারীদের নিয়ে মিছিল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। মিছিলের প্রথম সারিতে ছিলেন রাজ্যের মহিলা নেত্রী, মন্ত্রীরা। শোনা যায়, এদিনের এই মিছিলে সন্দেশখালির মহিলারাও হেঁটেছিলেন। সেই মিছিল থেকেই সন্দেশখালি নিয়ে মন্তব্য করেন নীলিমা জানা।
কিন্তু সন্দেশখালি মহিলাদের দাবী, এসব মিথ্যে। রাজবাড়ি এলাকার মহিলারা নিজেদের সন্দেশখালির বাসিন্দা দাবী করে ওই মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন। তারা দাবী করেন সন্দেশখালিতে কোনও ঘটনা ঘটে নি। কিন্তু রাজবাড়ি সন্দেশখালির মূল ঘটনাস্থল থেকে অনেক দূরে। তারপরও কীভাবে সন্দেশখালি নিয়ে এমন দাবী করলেন ওই মহিলারা, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ওই মহিলাদের বাড়ি ঘেরাও করেন সন্দেশখালির নির্যাতিতারা। কেন নিজেদের সন্দেশখালির মহিলা বলে দাবী করে মিছিলে যোগ দিয়েছেন রাজবাড়ির বাসিন্দারা, তা নিয়ে প্রতিবাদ জানান তারা।
প্রসঙ্গত, আগামী ১০ মার্চ ব্রিগেডে জনগর্জন সভা রয়েছে তৃণমূলের। এদিনই সন্দেশখালিতে আবার কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা। এদিন শুভেন্দু অধিকারী থাকবেন এই কর্মসূচিতে।





