অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে বাঁচাতে পারেন নি বাবাকে, রাতবিরেতে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দিতে গাড়ি কিনে অ্যাম্বুলেন্সের কাজে লাগালেন সফিকুল

শেষ মুহূর্তে এসে পৌঁছয় নি অ্যাম্বুলেন্স। এর জেরে দেরি হয়ে যায় হাসাতালে নিয়ে যেতে। আর এর জেরে চোখের সামনে বাবার মৃত্যু হতে দেখেন যুবক। এভাবে অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে যাতে আর কারোর প্রিয়জন চলে না যায়, সেই কারণে গাড়ি কিনে তাকেই অ্যাম্বুলেন্সের কাজে লাগালেন যুবক। প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত অসুস্থ রোগীদের গাড়ি করে হাসপাতালে পৌঁছে দেন তিনি তাও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

বছর বত্রিশের ওই যুবকের নাম সফিকুল হক। উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ ব্লকের ভিটিয়ারের বাসিন্দা তিনি। পেশায় ডেকরেটার। কখনও নিজে গাড়ি চালিয়ে, তো কখনও আবার চালক দিয়ে ১৬ কিলোমিটার দূরে রায়গঞ্জ মেডিক্যালে অসুস্থ রোগীদের পৌঁছে দেন তিনি। তাঁর গাড়ির সামনে ও পিছনে ফ্লেক্স ও ব্যানারে তাঁর ফোন নম্বর, যোগাযোগের ঠিকানা সব লেখা রয়েছে।

জানা গিয়েছে, বছর নয়েক আগে সফিকুলের বাবা তাজিরুদ্দিন হক বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। রায়গঞ্জ শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে ভিটিয়ার গ্রামে রাতে অ্যাম্বুলেন্স আসতে চায় না। সফিকুল জানান, “রাতে অ্যাম্বুল্যান্স আসতে দেরি করায়, বাবাকে মোটরবাইকে চাপিয়ে রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু দেরি হয়ে যাওয়ায়, রাস্তাতেই হৃদ্‌রোগে বাবা মারা গিয়েছেন বলে ডাক্তারেরা জানান। তখনই শপথ নিই, এলাকার কারও যাতে রাতে অ্যাম্বুল্যান্সের অভাবে মরতে না হয়, সে জন্য কিছু একটা করতেই হবে”।

সফিকুল বলেন, টাকার অভাবে অ্যাম্বুলেন্স না কিনতে পারলেও ২০১৮ সালে এল লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা দিয়ে একটি পুরনো গাড়ি কেনেন তিনি। সেই গাড়িটিকেই ব্যবহার করেন অ্যাম্বুলেন্সের মতো করে। তবে তাঁর আক্ষেপ, গাড়িতে অক্সিজেন সিলিন্ডার নেই, ফলে মুমূর্ষু রোগী বা প্রসূতিদের নিয়ে যেতে পারেন না তিনি।

এ স সমস্যার কথা অবশ্য জানা ছিল না স্বাস্থ্য দফতর বা প্রশাসনের। এই ঘটনার কথা জানার পর উত্তর দিনাজপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক পূরণকুমার শর্মা বলেন, “ভিটিয়ার এলাকায় অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা নিয়ে অভিযোগ মিললে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।

এলাকায় বাসিন্দারা জানান, শুধুমাত্র তাদের আত্মীয়রাই নন, আশেপাশের গ্রামের অনেক অসুস্থ রোগীও সফিকুলের এই গাড়ি করে সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছেছেন। সকলে বেঁচে গিয়েছেন তারা।

RELATED Articles