‘ব্রাজিলিয়ান ওয়াইফ’! ভালোবাসাই জুড়ল বাংলা-ব্রাজিলকে, সুদূর ব্রাজিল থেকে বাংলার ছেলেকে বিয়ে করতে এলেন তরুণী, ঘুম উড়ল পাড়া-পড়শির

বাংলা এবং ব্রাজিলকে জুড়ে দিল প্রেম। নবদ্বীপের ফরেস্ট ডাঙ্গার টিনের চালের ঘর আলো করে এল বিদেশিনী বউ। ব্রাজিলিয়ান হবু বৌমাকে শাঁখ বাজিয়ে, উলু দিয়ে, বরণ করে ঘরে তুললেন শাশুড়ি মা। ফেসবুকে পরিচয়, পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, সেই বন্ধুত্বই প্রেমে গড়ায়। প্রেমের টানে বাংলার বৌমা হতে চলেছে বিদেশিনী। ভারত ও ব্রাজিলের মধ্যে ভৌগোলিক দূরত্ব ১৪৭৬৬ কিলোমিটার। প্রেমের টানে সেই দূরত্ব এখন অতীত। পাত্র কার্তিক মণ্ডল, পাত্রী ম্যানুয়েলা অ্যালভেস দা সিলভা।

আগামী শুক্রবার চার হাত এক হতে চলেছে এদের। কে বলে লং ডিসটেন্স রিলেশনশিপ টিকে থাকা কঠিন। ভালোবাসা থাকলে দূরত্ব শব্দ মাত্র। এখানে নায়ক নয় নায়িকা সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে এসেছে বিয়ে করতে। নদিয়ার নবদ্বীপের ফরেস্ট ডাঙা এলাকার মন্ডল পরিবারে আজ সাজো সাজো রব। আগামী শুক্রবার নবদ্বীপের ছেলে হতে চলেছে ব্রাজিলের জামাই। কার্তিকের পাড়া-পড়শির ঘুম নেই। বিয়ের জন্য ম্যানুয়েলা আগে ভাগেই কার্তিকের বাড়ি এসে রয়েছে।

কার্তিকের টিনের চালের ঘরে ব্রাজিলিয়ান বৌমাকে দেখতে থিকথিকে ভিড়। কার্তিক কর্মসূত্রে সুরাটে থাকে। সেখানে একটি ওষুধের দোকান চালান কার্তিক। সেখানেই ২০১৮ সালে ফেসবুকে আলাপ হয় তাদের। প্রথমদিকে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল টুকটাক কথা হত ম্যাসেঞ্জারে। কথা হতে হতে দুজনের মধ্যে প্রেম গাঢ় হয়েছে বুঝতেই পারেননি। এরপর ছ’বছর চুটিয়ে প্রেম করেছেন দুজনে। যারা ভালো আছে, তাদেরকে দেখে দুইবারই কেউ আপত্তি জানায়নি। তাই নিজেদের ছ’ বছরের সম্পর্ককে স্বীকৃতি দিয়েছে।

ম্যানুয়েলা এমবিএ করেছে, এক অফিসে অ্যাকাউন্টেন্সিতে কাজ করছেন। ম্যানুয়েলা ঠিক করে নিয়েছিল কার্তিককে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করবে না, তাই ব্রাজিল থেকে নবদ্বীপে পাড়ি দেন। প্রথমে কার্তিকের ভাড়া বাড়িতে গিয়ে ওঠেন, তারপর কার দিকে হাত ধরে গ্রামের বাড়িতে যান ম্যানুয়েলা। বাঙালি আচার অনুষ্ঠান মেনেই কার্তিক-ম্যানুয়েলা সাতপাকে বাঁধা পড়বেন। ম্যানুয়েলার বাড়ির লোকজনেরা ভিডিও কলের মাধ্যমে এই বিয়েতে উপস্থিত থাকবেন।

ম্যানুয়েলা এখন বাঙালি খাবারি খাচ্ছেন। তবে এত ঝাল খেতে পারেন না। তবে সবটাই মানিয়ে নিচ্ছেন ধীরে ধীরে। বাঙালিদের মতো শাড়ি পরছেন। ম্যানুয়েলার সাথে কথা বলাও এখন সমস্যার নয় ম্যানুয়েলা নিজের ভাষায় গুগলে টাইপ করে বাংলা কথা দেখিয়ে দিচ্ছে পরিবারের লোকজনদের। তারা বুঝে যাচ্ছে। ব্যাস, সমস্যার সমাধান। প্রেম কারোর ভাষা, সংস্কৃতি, খাদ্যাভাস, ভিন্ন দেশ কোনটাই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। এই পৃথিবীতে ভালোবাসা থেকে সুন্দর আর কিছু নেই।

RELATED Articles