মানুষ খবরে বাঁচে। ভাবুন তো, একমাস আপনাকে ঘরে বন্দি করে রাখা হয়েছে, কোনও ইন্টারনেট নেই, কোনও সংবাদপত্র নেই, নেই টিভি-রেডিও। আপনি আপনার ঘরের বাইরে কী হচ্ছে কিছুই জানতে পারছেন না। আপনি থাকতে পারবেন? খবরই তো আমাদের সচল রাখে। আর এই খবর যারা দিনভর বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করে আপনাদের দেয় তাদের নিয়েই আমেরিকায় তৈরি হয়েছে আস্ত একটা মিউজিয়াম! যার নাম রাখা হয়েছে ‘নিউজিয়াম’।

১৯৯৭ সালের ১৮ই এপ্রিল ভার্জিনিয়ার রসলিনে এই নিউজিয়াম তৈরি করা হয়। আমেরিকার সংবিধানের প্রথম অ্যামেন্ডমেন্ট যা বাক স্বাধীনতার স্বপক্ষে কথা বলে তাকে উদযাপন করতেই এই নিউজিয়াম তৈরি করা হয়। যদিও পাঁচ বছর পর ২০০২ সালে এই নিউজিয়াম বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০০৮ সালে পেনসিলভানিয়াতে আবার এই নিউজিয়াম খোলা হয়। প্রতিবছর প্রায় ৮ লক্ষ ১৫ হাজার মানুষ দেখতে আসতেন এই নিউজিয়াম। হ্যাঁ দেখতে আসতেন কারণ শেষ খবর অনুযায়ী নিউজিয়াম বন্ধ হয়েছে ২০১৯ সালে। চলতি বছরে জানা গিয়েছে নিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে নতুন জায়গা খোঁজা হচ্ছে পুনরায় এই নিউজিয়াম প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।

পেনসিলভানিয়ার নিউজিয়ামটি একটি সাত তলা বিল্ডিং এবং এর আয়তন ছিল দু লাখ পঞ্চাশ হাজার বর্গফুট। নিউজিয়ামের বাইরে প্রতিদিন সেইদিনের বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদপত্র আটকানো থাকত। গোটা নিউজিয়ামেই ছিল সংবাদ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য ও ছবি। মোট ১৫টি থিয়েটার ও ১৫টি গ্যালারি নিয়ে এই নিউজিয়াম মানুষের জিজ্ঞাসা মেটাত।

গ্রেট হল অফ নিউজ, নিউজ হিস্ট্রি, নিউজ রুম, নিউজ গ্যালারি, ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট, ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম, দ্য সেপ্টেম্বর ইলেভেন অ্যাটাকস, হিস্ট্রি অফ ইন্টারনেট, টিভি অ্যান্ড রেডিও ইত্যাদি বিভিন্ন থিমের ভিন্ন ভিন্ন গ্যালারি নিউজিয়ামে ছিল। অন্যতম আকর্ষণীয় গ্যালারি হল জার্নালিস্টস মেমোরিয়াল; যেখানে যেসব সাংবাদিক খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন তাদের নাম লেখা রয়েছে। সারা বিশ্বের প্রায় দেড় হাজার সাংবাদিকের নাম এখানে লেখা রয়েছে।

খুব শীঘ্রই হয়ত নতুন জায়গায় প্রতিষ্ঠা হবে এই নিউজিয়াম। নিজের অনুসন্ধিৎসু মনের তেষ্টা মেটাতে একবার ঘুরেই আসতে পারেন বিশ্বের প্রথম এই সংবাদ সংগ্রহশালায়।





