বাংলাদেশি নাগরিকদের পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে প্রবেশের চেষ্টায় আরও সচেতন কর্তৃপক্ষ। সিংহদুয়ারের কাছে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।
জগন্নাথধামে কাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ?
পুরীর জগন্নাথদেবের মন্দিরে বরাবরই বিদেশি পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। মন্দিরের সেবায়ত, জগন্নাথ ধামের গবেষক এবং জগন্নাথ ধামের সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িতরা এই নিয়ম মেনে চলার পক্ষে কথা বলে বরাবর।
কেন এমন নিয়ম পুরীর মন্দিরে?
জাগ্রত এই পুরীর জগন্নাথধামে ভগবান বিষ্ণুর অবতার হিসেবে পুজিত হন জগন্নাথদেব। নিয়মিত পুজো পান ভগবান বলরাম, সুভদ্রা। আর এই মন্দিরে প্রবেশের অধিকার রয়েছে কেবলমাত্র হিন্দুদেরই। ফলে মন্দিরের মূল প্রবেশদ্বার সিংহদুয়ারের সামনে একটি বড় সাইনবোর্ড টাঙানো। যেখানে লেখা রয়েছে, ‘কেবলমাত্র হিন্দুদের প্রবেশে অনুমতি’। বহুদিন ধরে এই রীতি পালিত হচ্ছে পুরীর মন্দিরে। এই নিয়মের জন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণ মন্দিরের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়নি।
ইতিহাসবিদদের একাংশের মতে, একাধিকবার মুসলিমদের পক্ষ থেকে এই মন্দিরে হামলা চালানো হয় অতীতে। সে কারণেই হয়ত সেবায়তরা মুসলিমদের এই জগন্নাথধামে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। রথযাত্রার সময় ভগবান বলরাম এবং দেবী সুভদ্রার সঙ্গে জগন্নাথদেবকে বড় দণ্ডতে নিয়ে আসা হয়। একমাত্র এই সময় দর্শন করার সুযোগ দেওয়া হয় অ-হিন্দুদের। রথযাত্রার দিন মাসির বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয় তিন ভগবানকে। সেবায়িতদের মতে জগন্নাথদেবও অ-হিন্দুদের মন্দিরে প্রবেশের অনুমতির ক্ষেত্রে কোনওদিন কোনও অলৌকিক ইঙ্গিত দেননি।
পূর্বে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয় ইন্দিরা গান্ধীকেও। ১৯৮৪ সালে পুরীর মন্দিরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তিনি একজন অ-হিন্দুকে বিয়ে করেছিলেন বলে সেবায়েতরা তাঁকে জগন্নাথধামে প্রবেশে বাধা দেন। যা নিয়ে সেসময় শোরগোল পড়ে গিয়েছিল।
২০০৫ সালের নভেম্বর মাসে থাইল্যান্ডের রাজকুমারী মহা শ্রীনিধর্ন প্রথম ওডিশা সফরে পৌঁছালে তাকে মন্দিরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। ২০০৬ সালে সুইস নাগরিক এলিজাবেথ জিগলারকে মন্দিরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বিদেশি বলে তাঁদের প্রবেশাধিকারের অনুমতি দেওয়া হয়নি।





