বইয়ের নেশা প্রবল, রোজগার তেমন না হলেও ২২ বছরেও করেন নি পেশা পরিবর্তন, আজও পুরনো বইয়ের সম্ভার নিয়ে পড়ুয়াদের অপেক্ষায় ‘বই দাদু’

কাটোয়ার আদালত চত্বরে সবাই তাকে চেনে ‘বই দাদা’, ‘বই কাকু’, ‘বই দাদু’ (book seller) হিসেবে। প্রচুর বইয়ের সম্ভার না থাকলেও পুরনো বইয়ের যে সম্ভার রয়েছে তার চোখে পড়ার মতো। তার জীবনের ধ্যান জ্ঞান সবই এই বইকে জুড়েই। কাটোয়ার আদালত চত্বরে এক কোণে ত্রিপল বিছিয়ে ছাপোশা পোশাকে একরাশ বই নিয়ে বসে থাকেন তিনি। কখনও এক জোড়া হাত তুলে নেবে একটা বই তার থেকে ত্রিপলে বিছানো বইগুলো থেকে।

নিরুপমবাবু (book seller) বলেন, “ওদের ভালো হোক, ওদের আলো হোক”। আদালত ছাত্রের যিনি বই নিয়ে বসে থাকেন তার নাম নিরুপম রায় ঘটক। কাটোয়ার কলেজপাড়ায় পৈতৃক বাড়িতে থাকেন নিরুপমবাবু। স্ত্রী, ছেলেকে নিয়ে সংসার তাঁর। অবিবাহিত দাদা অনুপমবাবু রোগশয্যায়। দাদার দায়িত্বও নিরুপমবাবুর কাঁধেই।

নিরুপমবাবুর কথায়, “আমার সংসার খুব কষ্ট করেই চলে। আমার গিন্নি দু বাড়ি রান্না করে। সংসার কষ্টেই চলে”। বইয়ের মায়া ছাড়তে পারেননি তাই ব্যবসা ও পরিবর্তন করা হয়নি নিরুপম বাবুর। তিনি বলেছেন, “এমন সময় গেছে সারাদিন আমি বই পড়ে কাটিয়েছি। সারারাত দিন না খেয়ে শুধুমাত্র বই পড়েছি। ন্যাশনাল লাইব্রেরীর কার্ড ছিল আমার, প্রচুর বই পড়তাম। সেই বইয়ের নেশাটা আমার মধ্যে রয়েছে। খেতে পাই আর না পাই, ব্যবসা চলুক বা নাই চলুক, আমি এখানে বসে বসেও বই পড়ি”।

নিরুপমবাবু বলেন, “২২ বছর আগে যখন এই ব্যবসা শুরু করেছিলাম তখন মোটামুটি চলে যেত। বই বিক্রি ভালোই হত। এখন তো বাচ্চারা, তরুণ প্রজন্ম মোবাইলে আসক্ত। বই পড়তেই চায় না। বিক্রিও কমেছে”। নিরুপম বাবু বাচ্চাদের অভিভাবকের কাছে অনুরোধ করেছেন প্রত্যেক বাচ্চার হাতে বই তুলে দেওয়ার জন্য। শিশুদের পড়ার মতো বই তাদের হাতে তুলে দেওয়া হোক যেন বইয়ের প্রতি তাদের আকর্ষণ বাড়ে।

কাটোয়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা কার্তিক দাস বলছেন, “ছাত্র অবস্থাতেই আমি এখান থেকে বই কেনা শুরু করি। বহুদিন ধরেই আমি এখান থেকে বই কিনে নিয়ে যাই। অনেক পুরনো মূল্যবান বই আমি এখান থেকে পেয়েছি। কম দামেও বই দেননি কিছু কিছু ক্ষেত্রে ফ্রিতেও দিয়ে দেন। এলাকার আর কোথাও এত কম দামে বই পাওয়া যায় না। পুরনো বই এত কম রেটে কাটোয়া এই একটা জায়গাতেই পাওয়া যায়”।

আরও অন্যান্য খবর