১০০ কোটি টাকার একটি সরকারি দুর্নীতি ধরে ফেলার শাস্তি স্বরূপ মানুষটার শরীরে এসে বিঁধেছিল ছয়-ছটা বুলেট। একটা বুলেট মাথা ফুঁড়ে বেরিয়ে গিয়েছিল আর একটা বুলেট নষ্ট করে দিয়েছে ডান চোখ। আজ এই মানুষটাই একজন আইএএস অফিসার (Rinku Singh)। ২০০৮ সালে সুস্থ সবল মানুষটা পিসিএস পাস করেছিলেন। চাকরি পেয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুজাফ্ফরনগর ডিস্ট্রিক্ট সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার পদে। চাকরিতে ঢোকার পরে রিঙ্কু সিং হদিশ পেয়েছিলেন একের পর এক দুর্নীতির। ভয় পাননি তিনি, তদন্তে নেমে জানতে পেরেছিলেন এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে রাঘব বোয়ালরা।
রিঙ্কু সিং (Rinku Singh) সব জেনে যাওয়ায় ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন দুর্নীতিবাজরা। তাই রিঙ্কু সিংকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে ফেলার প্ল্যান কষেছিলেন তারা। সফল হয়নি তাদের প্ল্যান। আজ পনেরো বছর পর সেই মুজাফ্ফরনগরের ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে ফিরে এসেছেন আইএএস অফিসার রিঙ্কু সিং রাহি। নিজের শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে দূরে সরিয়ে গোটা দেশকে দেখিয়ে দিয়েছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে কিভাবে রুখে দাঁড়াতে হয়। ।
আলীগড়ের এক নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্ম রিঙ্কু সিংয়ের (Rinku Singh)। রিঙ্কু সিং ডিস্ট্রিক্ট সোশ্যাল ওয়েলফেয়ারে অফিসার হিসেবে জয়েন করার পর একজন দায়িত্বশীল সরকারি আমলা হিসেবে সবটা সামলাচ্ছিল। কিন্তু কর্মজীবনে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই একটা বড় ধরনের দুর্নীতি ধরে ফেলেছিলেন। এর ফলে একের পর এক প্রাণহানির হুমকি আসতে থাকে তার কাছে। সাহসী রিঙ্কু সিং দমে যাননি দুর্নীতি রুখতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তিনি।
২০০৯ সালে রিঙ্কু সিংয়ের (Rinku Singh) ওপর ভয়াবহ আক্রমণ চালায় দুষ্কৃতীরা। সে সময় জীবন মরণ টানাপোড়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন রিঙ্কু সিং। দুষ্কৃতীরা ভেবে নিয়েছিলেন তিনি আর বেঁচে ফিরবেন না। ছটা গুলি লাগার পর একটা মানুষ বেঁচে যেতে পারে, এ কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি কেউ। নিজের যোগ্যতায় শত্রুপক্ষকে এক হাত নিয়েছেন রিঙ্কু সিং। একটা বুলেটের ভাঙ্গা অংশ রিঙ্কু সিংয়ের মাথায় থেকে গিয়েছিল। পরে সেটা অপারেশন করতে হয় আবার। বুলেটের ঘায়ে ডান চোখ নষ্ট হয়ে যায়। তবে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েই কাজে জয়েন করেছিলেন তিনি।
রিঙ্কু সিং (Rinku Singh) হাপুরে এক সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পড়াতে যেতেন । সেখানকার ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহেই আবার ইউপিএসসির জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন তিনি। মনের জোরে ২০২২ সালের ইউপিএসসি প্রতিবন্ধী কোটায় পরীক্ষায় বসেন তিনি। পরিশ্রম ও মেধার জোরে ৬৮৩ নম্বর নিয়ে ইউপিএসসি আইএএস পাশ করেন। মোট ১৬ বারের চেষ্টায় তিনি ইউপিএসসি পাশ করেন। এত সবকিছুর পরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে দু’বার ভাবেন না রিঙ্কু সিং।





