করোনার ভয়ে এখন বিশ্বব্যাপী মানুষজন আতঙ্কিত। করোনা থেকে পৃথিবী কবে মুক্ত হবে এই প্রশ্নের মুখে এখন বিশ্বের সব তাবড় তাবড় বিশেষজ্ঞরা। সংক্রমন রুখতে এখন সব দেশই লকডাউনের আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু সবার মনেই প্রশ্ন আর কতদিন? অন্যদিকে লকডাউনের জেরে বন্ধ কারখানা থেকে অফিস, উৎপাদন থেকে রপ্তানি। অর্থনীতির চাকা এখন থমকে গেছে।
বিশ্ববাসীর মনে এখন অনেক প্রশ্নের উদয় হচ্ছে। কিভাবে সামাল দেওয়া হবে এই ক্ষতি।আর এই ব্যাপক ক্ষতির ঢেউ গিয়ে পড়বে খেলার জগতেও। এমনিতেই করোনার জন্য বিশ্বের প্রায় সব জায়গায় খেলাধূলা বন্ধ। বহু জনপ্রিয় লিগ স্থগিত হয়েছে। স্থগিত হয়েছে বিশ্বের সব থেকে জনপ্রিয় টি—২০ টুর্নামেন্ট আইপিএল।
লকডাউন পর্ব এভাবেই চলতে থাকলে অনেক ক্রিকেট বোর্ড অৰ্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে চলেছে। বিসিসিআই, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের মতো সংস্থাগুলি হয়তো নিজেদের সামলে নিতে পারবে। কিন্তু যে সব বোর্ড আর্থিকভাবে একটু দুর্বল তারা কিভাবে এই ক্ষয়ক্ষতি সামাল দেবে ? বোর্ড ক্ষতির মুখে গেলে কর্মী ছাটাই পর্ব শুরু হবে, পাশাপাশি পরিস্থিতি সামাল দিতে কমে যাবে বেতনও। তাতেও কি সমস্যা মিটবে! বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) কিংবা শ্রীলংকা ক্রিকেট (এসএলসি), ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড (ডব্লিউআইসিবি)—র মতো বোর্ডগুলি দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০১৪ সালে প্রায় ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে বিশ্ব সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি করেছিল বিসিবি। চলতি মাসে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা এখনও অনিশ্চিত। অন্যদিকে নিজেদের দেশে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলার কথা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। এই সিরিজ থেকে লাভবান হতে পারত তারা। কিন্তু করোনার জন্য সিরিজ স্থগিত ফলে ভবিষ্যত এখন অন্ধকার। আগামী ৬ মাস ক্রিকেট বন্ধ থাকলে কম স্বচ্ছল বোর্ডগুলি বড়সড় সমস্যার মুখে পড়তে পারে। গত জানুয়ারিতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে একটি ম্যাচ সম্প্রচারক চ্যানেলের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখনও পর্যন্ত নতুন চুক্তি হয়নি। আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ হওয়ার কথা। কিন্তু সেটাও এখন বাতিলের খাতায়। পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) মাঝপথে বন্ধ হয়েছে। এশিয়া কাপের ভবিষ্যত কী? এপ্রিলে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন স্পনসর ও সম্প্রচারক খুঁজে না পেলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থাও খারাপ হতে পারে। চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় এবং অন্যান্য স্টাফদের বেতন মেটাতে সব থেকে সমস্যায় পড়বে বোর্ডগুলি। একে তো আইপিএল স্থগিত। তার উপর টি—২০ বিশ্বকাপও যদি না হয় তা হলে বোর্ডগুলির কী হবে এ নিয়ে চিন্তায় ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তারা।





