Mohun Bagan vs East Bengal Kolkata Derby: ডার্বি মানেই টানটান উত্তেজনা। কলকাতা ডার্বি (Kolkata Derby) মানেই বাঙালির আবেগ। এই মরসুমে ফের কলকাতার ময়দানে মুখোমুখি বাংলার সবচেয়ে বড় দুই ফুটবল টিম মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট (Mohun Bagan) এবং ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। আজ শততম বর্ষে পা দিয়েছে কলকাতা ফুটবল লিগের ডার্বি। শুধু তাই নয়, আইএসএল, ডুরান্ড কাপের মঞ্চে দুই দলের লড়াই হলেও পাঁচ বছর পরে কলকাতা লিগের ডার্বি ঘিরে বাড়তি উন্মাদনা তৈরি হয়েছে দর্শকদের মনে। লিগের আগের দুম্যাচে জয় পায়নি সবুজ-মেরুন শিবির। এদিকে এখনও অপরাজেয় ইস্টবেঙ্গল। শনিবার দুপুর ৩টে ১৫ মিনিটে শুরু হয়েছিল এই মহারণ।
এই ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশে ছিলেন দেবজিৎ মজুমদার, জোসেফ, মনোতোষ চাকলাদার, আদিল অমল, মহম্মদ রোশাল, নসিব রহমান, তন্ময় দাস, হীরা মণ্ডল, ডেভিড, বিষ্ণু, আমন সিকে। সুতরাং বলাই বাহুল্য, আজকের ম্যাচে আক্রমণ ভাগে শক্তি বাড়িয়েছে ইস্টবেঙ্গল। অন্যদিকে ডিফেন্স এবং ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে শক্তি বাড়িয়েছে মোহনবাগানও। রাজ বাসফোর, মহম্মদ রোশাল, অভিষেক সূর্যবংশী, মহম্মদ ফারদিন আলি মোল্লা, দীপেন্দু বিশ্বাস, রাজা বর্মন (গোলকিপার), সুহেল ভাট, সৌরভ ভানাওয়ালা, লিওয়ান কাস্তানহা, আমনদীপ এবং রবি বাহাদুর রানা।
মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল কলকাতা ডার্বির প্রথমার্ধ (Mohun Bagan vs East Bengal Kolkata Derby First Half)
আজকের ম্যাচে কিক-অফের আগে করমর্দন করেন রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু। ম্যাচের শুরুতেই ডান দিন থেকে আক্রমণ শুরু করে সুহেল ভাট। যদিও ইস্টবেঙ্গলের বক্সে ঢোকার আগেই তার থেকে বল কেড়ে নেয় ইস্টবেঙ্গল। মোহনবাগানের ডিফেন্সে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়ে ইস্টবেঙ্গল ৩ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের মাথায় প্রথম কর্নার পায় ইস্টবেঙ্গল। যদিও গোল করতে পারেননি লাল-হলুদ ব্রিগে। তবে প্রথম ১৩ মিনিটেই রোশাল, নসিব, ডেভিড, বিষ্ণুদের উঠে আসার জায়গা করে দেয় মোহনবাগানের খেলোয়াড়রা। এরপর ১৬ মিনিটে মোহনবাগান বক্সের বেশ খানিকটা বাইরে ফ্রিকিক পায় ইস্টবেঙ্গল। সরাসরি গোলের চেষ্টাও করেছিল তারা কিন্তু হাতে আসে ব্যর্থতা।
৩৫ মিনিটের মাথায় ভালো আক্রমণের সুযোগ পায় মোহনবাগান। ইস্টবেঙ্গলের ওপর চাপও সৃষ্টি করেছিল তারা। তবে বিপদ হয়নি। এরপরই শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা। প্রথমার্ধের শেষে খেলার ফল ছিল গোলশূন্য। প্রাথমিকভাবে প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গলের দাপট ছিল বেশি। মোহনবাগান ডিফেন্সকে চাপে ফেলে দিয়েছিল। ৩০ মিনিটের পর থেকে কিছুটা দাঁড়াতে শুরু করে মোহনবাগান। তবে গোলকিপারদের উপর চাপ তৈরি করতে পারেনি কোনও দলই।
মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল কলকাতা ডার্বির দ্বিতীয়ার্ধ (Mohun Bagan vs East Bengal Kolkata Derby Second Half)
এরপর দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হতেই মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় ইস্টবেঙ্গলের হয়ে প্রথম গোল করে ফেলেন বিষ্ণু। গোলের ক্ষেত্রে মোহনবাগান ডিফেন্সের বেহাল দশা ফুটে উঠেছে এক্ষেত্রে। বিষ্ণু প্রথম টাচটা দারুণ নিলেও মোহনবাগান ডিফেন্স তাঁকে অনেক জায়গা দিয়ে দাওয়ায় বলটা বেশ খানিকটা নিয়ে এগিয়ে গিয়ে শট মারেন বিষ্ণু। এরপর ৬০ মিনিটের মাথায় বাঁ-দিক থেকে দ্রুতগতিতে মোহনবাগান অর্ধে উঠে আসেন ইস্টবেঙ্গলের জেসিন টিকে। বক্সের মাথায় আমনকে বলটা বাড়ান। তাঁর প্রথম টাচটা ভালো ছিল না। ফলে কিছুটা সুযোগ পেয়ে যান মোহনবাগানের গোলকিপার। তিনি গোললাইন ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। ব্লক করে দেন আমনের শট। তারপর আরও দুটি শট মোহনবাগান ডিফেন্ডাররা বাঁচিয়ে দেন।

আরও পড়ুনঃ এয়ার ইন্ডিয়া ও ভিস্তারা একসঙ্গে মিশে যাওয়ার জের, বিপুল পরিমাণ কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা, বিকল্প কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কী?
এরপর ৬৪ মিনিটের মাথায় আবারও ইস্টবেঙ্গলের গোল। জঘন্য ডিফেন্ডিং দেখা যায় মোহনবাগানের। জেসিন টিকে দ্বিতীয় গোল করলেন। মোহনবাগানের রাজা বর্মন বলটা নিজের বাঁ-দিকে পাস বাড়ান সৌরভকে। ভয়াবহ ডিফেন্ডিং। বলটা ছিনিয়ে নেন আমন। তারপর বলটা বাড়ান মাঝের দিকে। গোল করে যান ইস্টবেঙ্গলের জেসিন টিকে। ২-০ গোলে এগিয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল। ৭৬ মিনিটে খারাপ রেফারিং। মোহনবাগানকে অ্যাডভান্টেজ না দিয়ে বাঁশি বাজিয়ে খেলা থামিয়ে দেন রেফারি। এবং ইস্টবেঙ্গলের জোসেফকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান। ফলে লালকার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় জোসেফকে। ইস্টবেঙ্গল ১০জন হয়ে যাওয়ায় আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় মোহন বাগান। ফলে ৯০+৬ মিনিটে এক গোল শোধ করে মোহনবাগান। অবশেষে দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ভালো মুভমেন্ট করে ম্যাচে ফিরে আসে মোহনবাগান। গোল করলেন সুহেল ভাট। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি। ২-১ গোলে জিতে যায় ইস্টবেঙ্গল। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে গোল করেন পিভি বিষ্ণু এবং জেসিন টিকে। মোহনবাগানের হয়ে ব্যবধান কমান সুহেল ভাট।





“আগে হিন্দু, তারপর বাঙালি…যে রক্ষা আমাদের রক্ষা করবে, আমি তাদের দলে” “আমি হিন্দুস্থান চাই” বাংলায় পদ্মফুলের উত্থানেই খুশি অভিজিৎ ভট্টাচার্য! বিজেপির সাফল্যের পর খুললেন মুখ! গায়কের মন্তব্যে তোলপাড় নেটদুনিয়া!