গোটা ম্যাচ ছুড়ে অজস্র মিস পাস। দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কিছু সুযোগ হাতছাড়া। এর ফলেই এ এফ সি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২ (AFC Champions league 2)-এর প্রথম ম্যাচেই রাভশান ক্লাবের কাছে আটকে গেল মোহনবাগান সুপার জায়ান্টস (Mohunbagan Supergiants)। নিজেদের ঘরের মাঠে অর্থাৎ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (Yuba Bharati Krirangan) গোলশূন্য অবস্থায় ম্যাচ ড্র করল সবুজ মেরুন ব্রিগেড। ম্যাচের একদম শেষের দিকে পেত্রাতোসের গোল বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। ফলে হোম ম্যাচে ১ পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হল হোসে মলিনার (Jose Molina) ছেলেদের।
হোসে মলিনা যেন কোচ হওয়ার পর দুর্ভাগ্য সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন ক্লাবে। ডুরান্ড কাপ ফাইনাল হারতে হয়েছে, হারতে হয়েছে আইএসএলের প্রথম ম্যাচেও। এবার এ এফ সি চ্যাম্পিয়নস লিগ ২ এর ম্যাচেও দেখা মিলল না জয়ের। গ্রুপের সবথেকে সহজ প্রতিপক্ষের কাছে আটকে যেতে হল মোহনবাগানকে। ধারে ও ভারে অনেকটাই এগিয়ে ছিল মোহনবাগান। মোহনবাগানের তারকা ফুটবলার জেমি ম্যাকলারেনের একারই বাজার মূল্য ১২ কোটি টাকা সেখানে রাভশনের কোনও বিদেশির দাম ২কোটি মূল্যের বেশী না। মোহনবাগানের দলে আছে দুজন বিশ্বকাপারও। তাও মাঠে খুব একটা ভালো ফুটবল খেলতে পারছে না হোসে মলিনার ছেলেরা। তাই ম্যাচ শেষে ‘মলিনা গো ব্যাক’ স্লোগান শোনা গেল গ্যালারিতে।
ম্যাচের পর সবুজ মেরুন কোচ হোসে মলিনা বলেন,”দলের পারফরম্যান্সে আমি খুশি। একটা কঠিন দলের বিরুদ্ধে ভাল ম্যাচ খেলেছি। রক্ষণ নিয়েও খুশি। দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের কাছে চার-পাঁচটা গোল করার সুযোগ এসেছিল। সেটা আমরা পারিনি। তবে দলের খেলায় খুশি”। তিনি আরও যোগ করে বলেন, “আমি সেরা দলই নামিয়েছিলাম তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। সে ভাবেই বেঞ্চ তৈরি রেখেছিলাম। জানতাম দ্বিতীয়ার্ধে খেলোয়াড়েরা ক্লান্ত হয়ে পড়বে। তখন রিজ়ার্ভ বেঞ্চের ফুটবলারদের দরকার লাগত। ওদের খেলোয়াড়েরা প্রথমার্ধে ভাল খেললেও শেষের দিকে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। আমরা সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি। তবু বলব মনবীর, লিস্টন, দিমি প্রত্যেকে ভাল খেলেছে”।
গ্যালারিতে ‘গো ব্যাক মলিনা’ স্লোগানের প্রসঙ্গে হেসে তিনি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন,”সমর্থকদের সমীহ করি। ওদের কথায় কিছু মনে করছি না। আমি এখানে খুশি। নিজের কাজ করতে এসেছি। বৃহস্পতিবার নতুন করে শুরু করব। যত দিন না মোহনবাগান কিছু জিতছে তত দিন পর্যন্ত আমার কাজ চলতেই থাকবে। শুধু সমর্থকই নয়, সংবাদমাধ্যম, ম্যানেজমেন্ট সবাইকে নিয়ে খুশি। কেউ কেউ আমাকে নিয়ে অখুশি হতেই পারেন। ওদের মন জয় করতে চাই”।
এদিকে মোহনবাগানের খারাপ সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমর্থকদের দ্বারা ব্যাপক ভাবে করা হচ্ছে মোহনবাগান অধিনায়ক শুভাশিস বোসকে। সমর্থকদের এই আচরণের বিষয়টি ভালোভাবে নিচ্ছেন না শুভাশিস বোসের স্ত্রী কস্তুরী ছেত্রী। স্বামীর পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “ভাল খারাপ সবার ক্ষেত্রেই থাকে। একের পর এক এত ম্যাচ খেলতে হচ্ছে। গোটা দলের উপর ফলাফল নির্ভর করে, কোনও একজনের উপর তো নয়। দল খারাপ খেললেই ওকে অধিনায়ক বারবার টার্গেট করা হয়। এটা আমি অনেকদিন ধরেই দেখছি। ফ্যানরা ওর ভালো খেলাটা দেখে না। সোশাল মিডিয়ায় কমেন্টেও ওরা আমাকেও এমন করে। ও সবসময়ই ভালো খেলে। কিন্তু দর্শকরা শুধু খারাপটাই বলে”।





