অযথা আতঙ্কিত হয়ে আগাম খাদ্যদ্রব্য কেনার প্রয়োজন নেই, জনগণকে আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

কোরোনার জেরে মানুষ আতঙ্কিত তার সাথে খাদ্যের যোগানের আকালের গুজব রটেছে চারিদিকে। তাই প্রধানমন্ত্রী সবাইকে আশ্বস্ত করে বলেন দেশে খাবারের আকাল হবে না তাই কারও অত্যাবশ্যক খাদ্যদ্রব্য আগাম মজুত করে রাখার প্রয়োজন নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জনগনের উদ্দেশ্যে এদিন আবেদন করেন, দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের কোনও আকাল নেই তাই কেউ যেন আতঙ্কিত না হন। অত্যাবশ্যক সামগ্রী যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে, তা নিশ্চিত করতে যথাযথ ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ইতিমধ্যেই অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের অধীনে কোভিড-১৯ ইকনমিক টাস্ক ফোর্স গঠিত হয়েছে। এই কমিটি দেশের সবকটি মহলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে। তাই কোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি এলে এই উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি তার মোকাবিলা করতে পারবে। কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর, এদিনই দিল্লির নর্থ ব্লকে পশুপালন মন্ত্রক, মৎস্য ও দুগ্ধ, অসামরিক বিমান চলাচল, ছোট ও ক্ষুদ্র শিল্প এবং পর্যটন মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন অৰ্থমন্ত্রী সীতারমণ।

ভারতের বুকেও বেড়েই চলেছে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। এই মুহূর্তে মারণ ভাইরাসের কবলে ১৯৫জন যার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে চার জনের। রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের তরফে সাবধানতার অবলম্বন হিসেবে বিভিন্ন রাজ্যে জারি হচ্ছে একাধিক নিষেধাজ্ঞা। এরই মধ্যে প্যানিক-বায়িং’ শুরু হয়ে গেছে শহরে-শহরে। আতঙ্কে মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য কিনে মজুত করে রাখছে।

ভারতে যে ১৯৫ জন করোনা সংক্রামিত ব্যক্তি আছেন তার মধ্যে ৩২ জন বিদেশি নাগরিক। এখনো পর্যন্ত রাজ্যের নিরিখে মহারাষ্ট্রে সর্বাধিক আক্রান্ত ৪৭ জন। কেরলে ২৮, উত্তরপ্রদেশে ১৯, দিল্লিতে ১৭ জন, হরিয়ানায় ১৬ ও কর্ণাটকে ১৫ জন। পাশাপাশি লাদাখেও ১০ জন আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। লখনউতে আরও ৪ জনের শরীরে মিল কোভিড-১৯। ওড়িশাতে সম্প্রতি মিলেছে ২ জন করোনা আক্রান্তকারী। করোনা সংক্রমণে যে ৪জন মারা গেছেন তারা কর্ণাটক, দিল্লি, মুম্বাই ও পঞ্জাবে রাজ্যের বাসিন্দা।

পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত আক্রান্ত ২ জন। আর ২ জনই কলকাতার। বর্তমানে বেলেঘাটা আইডিতে তাঁরা চিকিৎসাধীন । তরুণের দুই বন্ধুর শরীরেও মিলেছে করোনা সংক্রমণ। ওই দু’ জন পঞ্জাব ও ছত্তীসগঢ়ের বাসিন্দা। মানুষের শরীর ও মন যেভাবে একটু একটু করে ক্ষতির দিকে এগোচ্ছে তেমনি করোনার প্রভাব পড়ছে দেশের অর্থনীতিতে। এবার আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাসের হার এস্টিমেট থেকে বাদ দিতে হল।

এর আগে দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার ৫.৬ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে করোনা সংক্রমণের জেরে সেই আর্থিক বৃদ্ধির হার কমে দাঁড়িয়েছে ৫.১ শতাংশ। দেশে এখন জরুরিকালীন অবস্থা চলছে। মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। রাজ্যে রাজ্যে করোনার প্রভাব বেড়েই চলেছে এমতো অবস্থায় অৰ্থনীতির দিকে কারো নজর যাচ্ছে না। ওদিকে অর্থনীতিও ঘুমিয়ে পড়ার জোগাড়। ভারতের যেন উভয় সঙ্কট চলছে।

RELATED Articles

Leave a Comment