‘টাকা নেওয়া হয়ে গিয়েছে, চাকরিগুলো করে দিতেই হবে’, রাজ্যের মন্ত্রীর কাছে গিয়েছিল বার্তা, কে সেই মন্ত্রী? বড় পর্দা ফাঁস নিয়োগ দুর্নীতিতে

যতদিন এগোচ্ছে, নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে যেন তথ্য, নথি আরও বেশি করে স্পষ্ট হচ্ছে। পেঁয়াজের খোসার মতো এক এক করে নাম বেরিয়ে আসছে এই দুর্নীতিতে। সম্প্রতি এই দুর্নীতিতে নাম জড়িয়েছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতা তথা তৃণমূল নেত্রী রাজন্যা হালদারের স্বামী প্রান্তিক চক্রবর্তীর। এর মধ্যেই আদালতে জমা পড়ল এক বিস্ফোরক তথ্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি আধিকারিক কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বনাথ বসু ও তদন্তকারী সংস্থার কাছে এই নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই চিঠিতেই নাম রয়েছে প্রান্তিক চক্রবর্তীর। সেই চিঠিতে দাবী করা হয়েছে প্রান্তিকের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট চেক করলেই নাকি অনেক বিস্ফোরক তথ্য মিলবে।

সেই চিঠিতে এও দাবী করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ মিউনিপ্যাল সার্ভিস কমিশনের বেশ কিছু অ্যাডমিট নাকি পাঠানো হয়েছিল রাজ্যের এক মন্ত্রীর কাছে। সেই মন্ত্রীকে বলা হয়েছিল যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির থেকে টাকা নেওয়া হয়ে গিয়েছে, তাই চাকরিগুলো করে দিতেই হবে। তবে কোন মন্ত্রীর কথা বলা হয়েছে, তা চিঠিতে কোনও উল্লেখ নেই। এই নিয়ে এবার তদন্ত শুরু করলেন তদন্তকারীরা। এই চিঠি যদি সত্যি হয় আর আসল মন্ত্রীর নাম যদি খোলসা হয়, তাহলে নিয়োগ দুর্নীতির মামলা যে এক বড় মোড় নেবে, তা বলাই বাহুল্য।

কী অভিযোগ প্রান্তিকের বিরুদ্ধে?

প্রান্তিক চক্রবর্তী উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের শাসক দলের দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১৮-১৯ সালে কোনও নিয়োগ পদ্ধতি ছাড়াই ৮৫০ জনকে শিক্ষক পদে নিয়োগ করা হয়েছিল। সেই নিয়োগ দুর্নীতির টাকা ঘুরত তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের গাড়িতে। আর সেই টাকা নেওয়া হত জি-পের মাধ্যমে।  

কী বক্তব্য প্রান্তিকের?

এই সমস্ত অভিযোগকে কার্যত উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা। প্রান্তিকের কথায়, “আমি অবগতই নয় কেন হচ্ছে। বুঝতেই পারছি না। আমি আমল দিতেই নারাজ। আমি এইসময়ে একটি সিনেমা বানালাম। পাহাড় কেন্দ্রিক সিনেমা। ঠিক সেই সময়েই এই অভিযোগগুলি উঠে আসছে। আমি এখন এই নিয়ে একেবারেই আমল দিতে নারাজ। কেউ কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতেই পারেন, কিন্তু সেই অভিযোগের কতটা সত্যতা আছে, সেটাও বিচার করা দরকার। কেউ কাউকে কালিমালিপ্ত করতে, এসব করতেই পারে”।

আরও অন্যান্য খবর