ঊর্ধ্বতন কর্তার বিরুদ্ধে উৎপীড়নের অভিযোগ করে আ’ত্ম’হ’ত্যা অনগ্রসর জাতির ব্যক্তির, ২২ বছর পর অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস করল সুপ্রিম কোর্ট

২২ বছরের পুরনো মামলায় অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস করল সুপ্রিম কোর্ট। অভিযুক্তের উপর তাঁর সহকর্মীকে আ’ত্ম’হ’ত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। সেই মামলাই খারিজ করে এবার অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বেকসুর খালাস করল সুপ্রিম কোর্ট। এরই সঙ্গে অভিযুক্তের উপর ধার্য হওয়া এসসি/এসটি আইনের ধারাও খারিজ করে শীর্ষ আদালত।

কী ঘটেছিল ঘটনাটি?

ঘটনাটি ২০০২ সালের। অভিযুক্তের নাম প্রভাত মিত্র। আর মৃত ব্যক্তি এই অভিযুক্তের জুনিয়র ছিলেন। ২০০২ সালের ৩ অক্টোবর আত্মহত্যা করেন ওই ব্যক্তি। সেই সময় সুইসাইড নোটে তিনি দাবী করেন যে প্রভাত মিত্র তাঁকে উৎপীড়ন করেছেন ও তাঁকে তফশিলি জাতি নিয়ে বৈষম্যমূলক কথাও বলেছেন। এই ঘটনার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইপিএস ধারা ৩০৬ (আ’ত্ম’হ’ত্যায় প্ররোচনা দেওয়া) ও তফশিলি জাতি ও উপজাতি সম্পর্কে বৈষম্যমূলক কথা বলায় মামলা দায়ের করে পুলিশ।

আদালতে অভিযোগকারী পক্ষের আইনজীবী দাবী করেন, অভিযুক্ত মৃত ব্যক্তিকে উৎপীড়ন ও অপমান করেছেন কারণ তিনি তফশিলি জাতির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই মামলায় হাইকোর্টে আবেদন জানান অভিযুক্ত। কিন্তু কোনও লাভ হয় না। দীর্ঘদিন মামলা চলার পর শেষ পর্যন্ত শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন অভিযুক্ত।

এই মামলায় মৃত ব্যক্তির সুইসাইড নোট খতিয়ে দেখে সুপ্রিমকোর্ট। এরপর ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ওই চিঠিতে কোথাও এমন কিছু লেখা নেই, যাতে মনে হবে যে অভিযুক্ত মৃত ব্যক্তিকে কখনও আ’ত্ম’হ’ত্যার জন্য প্ররোচনা দিয়েছেন। ওই সুইসাইড নোট অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তি নিজের কাজের চাপ নিয়ে বেশ আশঙ্কিত ছিলেন বলে দাবী করে সুপ্রিম কোর্ট।

সুপ্রিম কোর্টের তরফে এও বলা হয় যে তফশিলি জাতি ও উপজাতি আইনের ধারা অনুযায়ী অভিযুক্তের উপর কোনও মামলা করা যাবে না। যদি তাঁর উপর এই বিষয়ে কোনও মামলা করা হয়ে থাকে, তাহলে তার অনুমতি দেওয়া যাবে না।

কোর্টের পর্যবেক্ষণ, “তফশিলি জাতি/উপজাতি আইনের ধারা অনুযায়ী এক্ষেত্রে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কোনও মামলা চালানো আসলে অবৈধ।  কারণ এই বিষয়ে কোনও মামলাই খাড়া হবে না। এই গোটা অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে অভিযুক্ত মৃত ব্যক্তির জাতি নিয়েই তাঁকে কোনও মন্তব্য করেছিলেন। আর কোনও অভিযোগের প্রমাণ এই অভিযোগ পত্রে নেই”।

কোর্টের কথায়, এই অভিযোগ পত্রে এমন কোনও প্রমাণ নেই যে অভিযুক্ত মৃত ব্যক্তিকে আ’ত্ম’হ’ত্যা’য় প্ররোচনা দেওয়ার মতো কোনও কাজ করেছেন। সেই কারণে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনও মামলা চালানোর অনুমতি দেবে না শীর্ষ আদালত। এর জেরে অভিযুক্তের উপর থাকা ২২ বছরের অভিযোগ এবার খারিজ হল সুপ্রিম কোর্টে।   

আরও অন্যান্য খবর