একুশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের দিন! মনে আছে সেই দিনটা, একদিকে শাসক দলের জিতের উল্লাস আর অন্যদিকে বিরোধী দলের পরিবারের বুক ফাটা আর্তনাদ। শুধুমাত্র বিজেপি কর্মী হওয়ার কারণে খুন হতে হয়েছিল একাধিক কর্মীকে। তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর, মারধর কিছুই বাদ রাখে নি নির্বাচনে জেতা দলের কর্মীরা। খু’ন হওয়া বিজেপি কর্মীদের মধ্যে অন্যতম নাম ছিল অভিজিৎ সরকার।
উত্তর কলকাতার এই বিজেপি কর্মীকে নৃশংসভাবে খু’ন হতে হয়েছিল। বাদ যায় নি তাঁর পরিবারও। তাঁর দাদাকে রীতিমতো বি’ব’স্ত্র করে মারধর করে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। সেই দুষ্কৃতীদের হাত থেকে রেহাই পায়নি অভিজিতের বৃদ্ধা মা ও অবলা সারমেয়রাও। এলাকায় ঝুলন্ত অবস্থায় মিলেছিল অভিজিতের ঝুলন্ত দেহ।
ভাইয়ের খু’নের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন দাদা বিশ্বজিৎ সরকার। খু’নের সঙ্গে জড়িত সকলের শাস্তির দাবী করেন তিনি। এই ঘটনায় সিবিআই তদন্ত চেয়েছিলেন তিনি। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তৃণমূলের পরেশ পাল ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা। কিন্তু এই ঘটনার তিন বছর কাটতেই যেন পাল্টে গেল চিত্র। বিজেপি কী ভুলে গেল তাদের শহিদদের আত্মত্যাগের কথা? এমনই প্রশ্ন উঠছে।
কেন উঠছে এমন প্রশ্ন?
জানা গিয়েছে, বিজেপি ছেড়েছেন অভিজিতের দাদা বিশ্বজিৎ। তাঁর অভিযোগ, তাঁর ভাইয়ের খু’নের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের নামে চার্জশিট ফাইল করা হয়েছে, এমনকি পরেশ পালের সাগরেদদেরও দলে যোগদান করিয়েছে বিজেপি। বিশ্বজিৎ জানান, গত ৩ মার্চ তাদের এলাকায় তাঁর ভাইয়ের শহিদ স্তম্ভের ঠিক পাশেই মঞ্চ বেঁধে দলে যোগদান করানো হয় অভিজিতের খু’নের জড়িত তৃণমূল কর্মীদের। আর সেই যোগদান হয় অঞ্চলের মণ্ডল সভাপতির হাত ধরে।
এমন ঘটনা ঘটায় কষ্টে, অভিমানে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন বিশ্বজিৎ। তাঁর কথায়, যে দলের জন্য তাঁর ভাইয়ের প্রাণ গেল, যে দল করতে গিয়ে তারা সর্বস্বান্ত হলেন, সেই দল ভুলে গিয়েছে কর্মীদের আত্মত্যাগের কথা। তা না হলে যে তৃণমূল কর্মীদের বিজেপি কর্মীদের মৃত্যুর জন্য দায়ী, তাদেরই দলে যোগদান করাত না বিজেপি। দলের উপর ক্ষোভ, কষ্ট উগড়ে দিয়ে বিজেপি ছাড়েন বিশ্বজিৎ। এমনকি তিনি এও জানিয়ে দেন, তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুর পর দলের তরফে যে ৫ লক্ষ টাকা তাদের দেওয়া হয়েছিল, সেই টাকাও ফিরিয়ে দেবেন তিনি। যে দলে দলীয় কর্মীদের আত্মবলিদানের দাম নেই, কর্মীদের সম্মান নেই, সেই দলে তিনি থাকতে চান না বলে জানান বিশ্বজিৎ।
বিশ্বজিৎ দল ছেড়েছেন এই কথা জানার পরই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে দলীয় নেতৃত্ব। বিজেপি নেতা তমঘ্ন ঘোষ জানান, যদি সত্যিই এমন কোনও ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে যারা যোগ দিয়েছে, তাদের একেবারেই দলে প্রবেশাধিকার দেবে না নেতৃত্ব। তাঁর কথায়, বিজেপি তাদের কর্মীদের সম্মান করে, কোনও বিজেপি কর্মীর খু’নিদের দলে কোনওভাবেই নেওয়ার পক্ষে নয় নেতৃত্ব। তমঘ্ন ঘোষের কথায়, এমন ঘটনা যদি ঘটে থাকে, তাহলে তিনি খোঁজ নিয়ে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবেন।
বিজেপি নেতা এও জানান, তিনি বিশ্বজিতের দাদার সঙ্গে তিনি এই বিষয়ে কথা বলেছেন। তাঁকে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে এমন কোনও ব্যক্তি যারা বিজেপি কর্মীর খু’নের সঙ্গে যুক্ত তাদের দলে নেবে না নেতৃত্ব। বিশ্বজিৎ সরকার এবার বিজেপি নেতার আশ্বাসবাণীতে আশ্বস্ত হন কী না, সেটাই এখন দেখার।






