‘শান্তনু গাঁ’জা’খো’র, ওঁকে ভোট দেবেন না’, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় আক্রমণ দলেরই বিধায়কের, অডিও ফাঁস হতেই শোরগোল বিজেপির অন্দরে

লোকসভা নির্বাচনের আর বেশিদিন নেই। এই সময় নানান দল যে একে অপরকে আক্রমণ করবে, হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করবে, তেমনটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তা বলে নিজের দলের নেতাকেই অকথ্য ভাষায় আক্রমণ করা, এমন ঘটনা তাও আবার ভোটের ঠিক প্রাক্কালে, তা দলের জন্য ক্ষতিকর তো বটেই। বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার এবার তেমনটাই করলেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরকে অকথ্য ভাষায় আক্রমণ করলেন তিনি। এর জেরে বেশ হইচই বিজেপির অন্দরে।

কী ঘটেছে ঘটনাটি?

সম্প্রতি একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই অডিও ক্লিপেই শোনা গিয়েছে হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার অকথ্য ভাষায় আক্রমণ করছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরকে (যদিও এই অডিও ক্লিপের সত্যতা যাচাই করেনি খবর ২৪x৭)। লেখার অযোগ্য ভাষায় শান্তনুকে গালিগালাজ করতেও শোনা গিয়েছে বিজেপি বিধায়ককে।

এই অডিও ক্লিপে শোনা গিয়েছে, অসীম সরকার বলছেন, “বাগদা, হেলেঞ্চা এলাকায় আমার অনেক অনুগামী রয়েছে, তাঁদের আমি বলে দিয়েছি, শান্তনুকে কেউ ভোট দিবি না”। এই অডিও ক্লিপ যদি সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে লোকসভা ভোটের ঠিক আগে দলের বিধায়ক যেভাবে দলের মন্ত্রীকে কটাক্ষ করেছেন, তাতে বেশ অস্বস্তিতে পড়তে হতে পারে গেরুয়া শিবিরকে।

তবে এই অডিও ক্লিপ প্রসঙ্গে বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি দেবদাস মণ্ডলের দাবী, “ওই অডিও তৃণমূলের তৈরি। ভোটে হার নিশ্চিত জেনে অন্য পন্থা অবলম্বন করছে তৃণমূল। শাসকদলের প্রার্থী তথা বাগদার বিধায়ক বিশ্বজিত দাসকে কেউ ভোট দেবে না। সেটা জেনেই এসব পন্থা বের করছে তারা। এই ধরনের শব্দ কিছুতেই আমাদের বিধায়ক বলতে পারেন না”।

অন্যদিকে তৃণমূলের তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবী, বিজেপির মধ্যে কোন্দল তো রয়েছেই। নিজেদের ঘরের কোন্দলের দায় এখন তৃণমূলের উপর চাপাতে চাইছে গেরুয়া শিবির, এমনটাই দাবী তাদের।

এদিকে আবার স্থানীয়দের বক্তব্য, বনগাঁতে বিজেপির এমন কোন্দল নতুন কোনও ঘটনা নয়। তাদের কথায়, এই এলাকায় বিজেপি দু’ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। একদিকে শান্তনু ঠাকুর আর অন্যদিকে অসীম সরকার, বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়ারা রয়েছেন।

RELATED Articles