পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ডিপার্টমেন্টের গর্ব বৈদ্যনাথ বর্মন (Baidyanath Burman)। এলাকার কোন বয়স্ক লোক অসুস্থ, বা চিকিৎসার জন্য টাকার দরকার, বাচ্চাদের বই ব্যাগের পয়সা নেই? চিন্তা করার কোন দরকার নেই। বৈদ্যনাথ স্যার নিজের মাইনের টাকা থেকেই যতটা সম্ভব নিজের এলাকার অসহায় মানুষদের আগলে রাখেন। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন থানার অফিসার বৈদ্যনাথ বর্মন (Baidyanath Burman)। সিনেমা সিরিয়ালে আমরা দেখে থাকি পুলিশ অফিসার মানেই অসৎ ঘুষখোর কিন্তু বাস্তবে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে রয়েছেন বৈদ্যনাথ বর্মনের মতো এমন অনেক পুলিশ অফিসার। এমন পুলিশ অফিসাররা রয়েছেন যিনি এই বছরের পর বছর ধরে মানুষের জন্য নিরবে কাজ করে চলেছেন।
এক বাচ্চা ছেলে কৌশিক ভোর পাঁচটায় উঠে চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পড়তে যায়। টোটো যাতায়াত করার সাধ্য পর্যন্ত নেই কৌশিকের। পড়া থেকে কোনমতে বাড়ি ফিরেই পৌঁছাতে হয় স্কুলে। সারাদিনের ছোট ছুটিতে ক্লান্ত হয়ে পড়ত কৌশিক। খবর পেলেন তপন থানার অফিসার বৈদ্যনাথ বর্মন (Baidyanath Burman)। দিন কয়েকের মধ্যে একটা সাইকেল নিয়ে তিনি হাজির হলেন কৌশিকদের বাড়িতে। ছোট কৌশিকের হাতে সাইকেল তুলে দিয়ে তাকে মিষ্টিমুখ করিয়ে বৈদ্যনাথ বাবু কৌশিকের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে এসেছেন। কিছুদিন ধরেই ভাইরাল হয়েছে এই পোস্ট।
একটি পোস্টের ভাল খারাপ সব কমেন্টই আসতে থাকে। কেউ কেউ কমেন্ট করেছেন দেখে মনে হচ্ছে সাইকেলটি পুরনো। দিলেন যখন নতুন সাইকেলে দিতে পারতেন। তারা জানেন না বৈদ্যনাথ বাবু দায়িত্ব নিয়ে রেখেছেন এলাকার আরো ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের। তাদের পড়াশোনা মাইনে দেওয়া বই কিনে দেওয়া, জামা কাপড় থেকে স্কুল ব্যাগের মতো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সব দায়িত্ব এই পালন করেন বৈদ্যনাথবাবু (Baidyanath Burman)। এর দায়িত্ব তিনি পালন করেন নিজের মাইনের টাকা থেকে। কৌশিক কে সেকেন্ড হ্যান্ড সাইকেল দিলেও তার প্রয়োজন মিটেছে এটাই বড় কথা।
শুধুমাত্র অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া বাচ্চাদের নয় বৈদ্যনাথবাবু (Baidyanath Burman) অঞ্চলের অসহায় বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের পাশেও সব সময় থেকেছেন। যেখানেই কেউ বিপদে পড়ে বৈদ্যনাথ বর্মন ছুটে যান সেখানে। রাতবিরেতে এলাকায় কোন বৃদ্ধ বা বৃদ্ধা অসুস্থ হয়ে গেলে বৈদ্যনাথবাবু (Baidyanath Burman) নিজের গাড়িতে চাপিয়ে সে সমস্ত বয়স্ক মানুষদের হাসপাতালে পৌঁছে দেন। প্রয়োজনে তাদের চিকিৎসার খরচ মিটিয়ে দেন নিজের মাইনে থেকে। এতকিছুর পরে ও মিডিয়াতে দেখা যায় না, বৈদ্যনাথ বাবুকে। তিনি শুধুমাত্র ফেসবুকে ভাইরাল হন।
বৈদ্যনাথ বর্মনের (Baidyanath Burman) কথা প্রথমবার প্রকাশ্যে আসে গত বছর নভেম্বর মাসে। এবছর বিগত কিছুদিন ধরে তিনি আবারও ভাইরাল হয়েছেন। তারাই মহৎ কর্মকাণ্ডে সারা রাজ্য জুড়ে আলোচনা হচ্ছে। মিডিয়ার আলো থেকে এখনো নিজেকে দূরে রেখেছেন বৈদ্যনাথ বাবু। তিনি উঠে আসেননি কোন খবরের পাতায়।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার