‘দশ আঙুলে সোনার আংটি, গলায় সোনার চেন নেই, আমাকে কেউ বিধায়ক মানবে কেন’, আক্ষেপ করে কাকে নিশানা মনোরঞ্জন ব্যাপারীর?

Manoranjan Byapari: ঠিক লোকসভা ভোটের প্রাক্কালেই ফের দলের অস্বস্তি বাড়ালেন বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী (Manoranjan Byapari)। তাঁর কথায়, তাঁর শরীর সোনায় মোড়ানো নয়, সেই কারণেই নাকি তিনি পুরোপুরিভাবে বিধায়ক হয়ে উঠতে পারেন নি। আর সেই কারণেই তাঁর মান্যতা নেই। এমন কথা বলে আসলে কাকে নিশানা করতে চাইলেন তৃণমূল বিধায়ক? উঠছে প্রশ্ন।

এর আগেও একাধিকবার নানান বিষয়ে দলের একাংশের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন বলাগড়ের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী (Manoranjan Byapari)। তাঁর অভিযোগ ছিল, দলের নেতারই একাংশ দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। দলবিরোধী মন্তব্য করায় তাঁকে মুখ খুলতে বারণ করা হয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনে দীর্ঘদিন তিনি কোনও মন্তব্য না করলেও এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ পোস্ট করলেন বলাগড়ের বিধায়ক। আর এর জেরে লোকসভা ভোটের আগে ফের একবার তিনি অস্বস্তিতে ফেললেন তাঁর দলকে।

কী লিখেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় মনোরঞ্জন ব্যাপারী (Manoranjan Byapari)?   

সোশ্যাল মিডিয়ায় মনোরঞ্জন ব্যাপারী (Manoranjan Byapari) লেখেন, “তিন বছর হয়ে গেল আমার বিধায়ক জীবনযাপন। এই তিন বছরে না আমি হয়ে উঠতে পারলাম পুরোপুরি বিধায়ক, না আমাকে কেউ মানতে পারলো আস্ত একটা বিধায়ক হিসাবে। আমার হাতের দশ আঙুলে বারো পনেরটা সোনার আংটি নেই, গলায় দশ তোলা সোনার চেন নেই, সেই সাড়ে তিনশো টাকা দামের ফতুয়া প্যান্ট – এ কেমন বিধায়ক! লোকে মানবে কেন আমাকে বিধায়ক বলে? পহেলা দর্শনধারী পিছে তো গুন বিচারি”।

এখানেই শেষ নয়, তিনি (Manoranjan Byapari) আরও লেখেন, “৮১ হাজার ৭৮০ টাকা বেতন পাই। যা থেকে কম বেশি বেতন দিয়ে ছয়জনকে পালন পোষণ করতে হয়, নিজের খাই খরচ আছে, তার উপর দু’জন সিকিউরিটি, একজন ড্রাইভারকেও খাওয়াতে হয়। আমার একটা অফিস আছে। সকাল বিকালে চায়েও শ’খানেক উড়ে যায়। একটা গাড়ি চড়ি। তাতেও কিছু খরচ লাগে। এত কিছুর পর সোনার স্বপ্ন দেখার সাহস হয় না। তাই বিধানসভায় আমার পরিচয় বিপিএল বিধায়ক হিসাবে। এমন বিধায়ককে কী ইতিহাস ক্ষমা করবে”?

Manoranjan Byapari
Manoranjan Byapari

মনোরঞ্জন ব্যাপারীর (Manoranjan Byapari) এই পোস্ট নিয়ে এবার শুরু হয়েছে কাটাছেঁড়া। এমন সোনায় মোড়ানো শরীর নিয়ে মন্তব্য করে তিনি আসলে কাকে নিশানা করতে চাইলেন, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। বিধায়ক বা সাংসদদের হাতে গলায় সোনার আংটি বা চেন থাকা কোনও অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। কিন্তু গায়ে যত বেশি সোনা, তা দিয়েই কী বিধায়কের পরিচয়ের মাপকাঠির বিচার হয়, এমন প্রশ্ন তো থাকছেই!

আরও অন্যান্য খবর