তৃণমূল জমানা নয়, বাম আমল থেকেই ‘গুণ্ডাগিরি চালাত শাহজাহান, এলাকায় দাপট চলত ‘সন্দেশখালির ত্রাসের’, সামনে এল বিস্ফোরক তথ্য

দিন যত এগোচ্ছে, শেখ শাহজাহানকে (Sheikh Shah Jahan) নিয়ে তথ্যের ভাণ্ডারও যেন এক এক খুলছে। এবার জানা গেল, শাহজাহানের (Sheikh Shah Jahan) দাপট যে তৃণমূল জমানাতেই তা নয়, বাম আমল থেকেই এলাকায় গুণ্ডাগিরি চালাত সে। ২০০৬ সালে এলাকায় গুণ্ডা বলেই পরিচিত ছিল শাহজাহান। পরে রাজ্যে পালাবদলের পর সে যোগ দেয় রাজনীতিতে।

গতকাল, সোমবার শেখ শাহজাহান (Sheikh Shah Jahan), আলমগীর, শিবু হাজরা-সহ সন্দেশখালির অভিযুক্তদের তোলা হয়েছিল কলকাতা নগর দায়রা আদালতে। এদিন আদালতে সাক্ষীর বয়ান পেশ করে ইডি। সাক্ষীর বয়ান অনুযায়ী ইডি আদালতে দাবী করে, শাহজাহান (Sheikh Shah Jahan) বাম আমল থেকেই এলাকায় গুণ্ডাগিরি চালাত। ২০১৩ সালে সে যোগ দেয় তৃণমূলে।

আর তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ধীরে ধীরে ক্ষমতা বাড়তে থাকে তার। প্রভাবশালী হয়ে ওঠে সে। সন্দেশখালিতে নানান পদ পায় শাহজাহান (Sheikh Shah Jahan)। তাঁর সাগরেদরা এলাকাবাসীদের অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখিয়ে তোলাবাজি করত বলে জানিয়েছেন ইডি। এই সাক্ষীকে ভয় দেখিয়ে নিজের সংস্থার নির্মাণের কাঁচামাল বিক্রির বিনিময়ে তাঁর থেকে ৪৫ লক্ষ টাকা জোর করে আদায় করে শাহজাহানের সাগরেদ শিবু হাজরা, এমনটাই আদালতে জানিয়েছে ইডি। এমনকি, ওই সাক্ষীকে এমন হুমকিও দেওয়া হয়েছিল যে তার থেকে যদি জিনিসপত্র না নেওয়া হয়, তাহলে জেলায় কোনও টেন্ডার দেওয়া হবে না তাঁকে।

অন্য এক সাক্ষীর দেওয়া বয়ান অনুযায়ী, শাহজাহান (Sheikh Shah Jahan) নিজে কখনও এই টেন্ডারের ব্যাপারে সামনে থেকে কথা বলত না। তার ভাই আলমগীর, শিবু হাজরা ঠিকাদারদের ডেকে পাঠাত ধামাখালি গেস্ট হাউস বা ব্লক অফিসে। সেখানেই ঠিক করা হত, কে কোন টেন্ডার পাবে। আলমগীর শিবু হাজরারা টেন্ডারের বদলে মোটা কমিশন নিত বলে জানিয়েছে ইডি। আবার সরকারি টেন্ডারও ঘুরপথে সেই শাহজাহান (Sheikh Shah Jahan) ও তার সাগরেদদের কাছেই আসত।

এদিন আদালতে আও এক বিস্ফোরক তথ্য দেয় ইডি। শাহজাহান (Sheikh Shah Jahan) যেহেতু জেলা পরিষদের মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ ছিল, সেই কারণে নেতামন্ত্রীদের সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল তার। সেই প্রভাব খাটিয়েই নানান সরকারি টেন্ডার নিজের অনুগামীদের পাইয়ে দিত শাহজাহান (Sheikh Shah Jahan) । আর তাতেই লাভবান হতেন তারা। ইডির অনুমান, ২০১৬-২০২৩ পর্যন্ত সরকারি টেন্ডারে চলেছে দুর্নীতি। এমনকি, শাহজাহানের (Sheikh Shah Jahan) জমি দখলের টাকা থেকে লাভবান হয়েছেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী, এও আদালতে জানিয়েছে ইডি। শাহজাহান ও বাকি অভিযুক্তদের ১৩ মে পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও অন্যান্য খবর