রাস্তার ধারের ঘুগনি খেতে ভালোবাসেন? অজান্তেই বিষ ঢোকাচ্ছেন শরীরে, খাবারে ধরা পড়ল বিষাক্ত সিন্থেটিক রং, ক্যান্সারের আশঙ্কা

Harmful chemical in street food: অনেকেই রাস্তার ধারের ঘুগনি,ফুচকা, চাট খেতে ভালোবাসেন। শহরের অলিতে গলিতে তাই ফুচকার দোকান কিংবা ঘুগরির দোকান দেখা যায়। সন্ধ্যের দিকে অনেকেই ঘুগনি, ফুচকার দোকানে ভিড় জমান। তবে কি জানেন ওই ঘুগনিতে রয়েছে ক্যান্সারের বীজ। গ্রামেগঞ্জে নয় খাস কলকাতা আর হাসপাতাল চত্বরেই ঘুগনিতে বিষ। মধ্য কলকাতার মেডিকেল কলেজ এলাকায় কলেজের রাস্তার দুপারে অঢেল দোকান খাবারের। সম্প্রতি সেখানে কলকাতা পুরসভার খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগ খাবারের কোন মানুষ পরীক্ষা করতে পৌঁছেছিল। খাবারের গুণমান পরীক্ষা করতে গিয়ে মাথায় হাত। ডিমের ঝোল আর ঘুগনিতে পাওয়া গিয়েছে বিষাক্ত মেটানিল ইয়েলো (Metanil Yellow)। এই বিষাক্ত মেটানিল বিষক্রিয়া তৈরি করতে সক্ষম (Harmful chemical in street food)।

মেটানিল ইয়েলো অ‌্যাজো শ্রেণির একটি রঞ্জক। রসায়ন বিভাগের ল‌্যাবরেটরিতে তা ব‌্যবহার করা হয়। গবেষণাগারের রাসায়নিক এখন ছড়িয়ে পড়েছে খাবারের দোকানে (Harmful chemical in street food)। আচমকা অভিযান চালিয়ে এমনই তথ্য উঠে এসেছে কলেজ স্ট্রিট চত্বরের ওই দোকানগুলি থেকে। অভিযুক্ত দোকানের সমস্ত ঘুগনি ডিমের ঝোল ফেলে দিয়েছেন কলকাতা পৌরসভার খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের আধিকারিকেরা।

ফুড সেফটি স্ট‌্যান্ডার্ড অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI) ‘মেটানিল ইয়েলো’-রব‌্যবহারকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বহুদিন আগেই। কিন্তু বাজারে হলুদের যা দাম তা থেকে অনেক সস্তায় এই সিন্থেটিক রং পাওয়া যায়। মেটানিল ইয়েলো মেশালে খাবারের রং হলুদ হয় অনেক বেশি (Harmful chemical in street food)। পুরসভার খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের আধিকারিকদের মতে, বিক্রেতারা অধিক মাত্রায় লাভ করতে চেয়েছেন সেই উদ্দেশ্যে এই সিনথেটিক রং মিশিয়ে খাবার রঙিন করেছেন। ‌

কলকাতা পুরসভার খাদ‌্য নিরাপত্তা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ডা. তরুণ সাফুই জানিয়েছেন, “কলেজ স্ট্রিট এলাকার আটটি দোকানে পরিদর্শনে গিয়েছিল খাদ‌্য নিরাপত্তা বিভাগের টিম। মোট ২৭ রকম খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তার মধ্যে দুটি দোকানের ডিমের ঝোল আর ঘুগনিতে পাওয়া গিয়েছে বিষাক্ত মেটানিল ইয়েলো (Harmful chemical in street food)”।

পুরসভার তরফে কলেজ স্ট্রিট এলাকায় সমস্ত দোকানদারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, “ফুড সেফটি স্ট‌্যান্ডার্ড অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার লাইসেন্স এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর দোকানে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। এমন ভাবে এই রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঝুলিয়ে রাখতে হবে যাতে তা ক্রেতাদের নজরে পড়ে। শুধু তাই নয় প্রতিটি কেনাবেচারও রেকর্ড রাখতে হবে বিক্রেতাদের”। ডা. তরুণ সাফুই জানিয়েছেন, “রেস্তরাঁয় নোংরা হাতে খাবার বানানো, অপরিষ্কার জায়গায় রান্নাবান্না কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। বিক্রেতাদের বলা হয়েছে, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে”।

উল্লেখ্য, এর আগেও বিষাক্ত মেটানিল ইয়েলো পাওয়া গিয়েছিল (Harmful chemical in street food)। বেসনের লাড্ডু, রান্না আর হলুদ গুঁড়াতে এই সিন্থেটিক বিষাক্ত রাসায়নিক এর ব্যবহার নজরে এসেছিল কলকাতা পুরসভার। এবার মধ্য কলকাতার কলেজ স্ট্রীট এলাকায় একাধিক খাবারের দোকানে অভিযান চালাতেই মিলল ক্ষতিকর রং (Harmful chemical in street food)।

মেটানিল ইয়েলো বিষ নয় তবে এর মধ্যে উপস্থিত মেটাবোলাইট এবং ডাইফেনালামিনকে ক‌্যানসারের কারণ হিসাবে পরিচিত চিকিৎসকদের কাছে। দীর্ঘদিন ধরে খাবারের মাধ্যমে এই রঙ শরীরে প্রবেশ করলে ক্যান্সারের সম্ভাবনা থাকছে (Harmful chemical in street food)। সেই কারণেই মেটানিল ইয়েলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আরও অন্যান্য খবর