বাংলার স্কুল নাকি মৃত্যুপুরী! ছাদ থেকে খসে পড়ছে চাঙড়, প্রাণ বাঁচাতে ছাতা মাথায় ক্লাস করছে খুদেরা

Ceiling fall in classroom: এ কেমন দৃশ্য ক্লাসরুমের? পড়ুয়াদের এক হাতে বই আর অন্য হাতে ছাতা ধরা। কী কারণে এমন ব্যবস্থা? আসলে এর নেপথ্যে কারণ হল স্কুলের বেহাল দশা। স্কুলের ছাদ থেকে ভেঙে পড়ছে চাঙড় (Ceiling fall in classroom)। ফলে প্রাণ রক্ষা করতেই ছাতা দিয়ে মাথা ঢাকার চেষ্টা খুদে পড়ুয়াদের।

কোথায় ঘটেছে এমন ঘটনা (Ceiling fall in classroom)?

ঘটনাটি ঘটেছে হিঙ্গলগঞ্জের দুলদুলি পুকুরিয়া আদিবাসী প্রাথমিক স্কুলে। সেখানেই ধরা পড়ল ক্লাসরুমের এই অদ্ভুত দৃশ্য। জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগেই এই স্কুলের ছাদের একটি অংশ ভেঙে পড়েছে (Ceiling fall in classroom)। ভেঙে পড়তে পারে বাকি অংশও। ঘরের দেওয়ালের অবস্থা খুবই খারাপ। এমনকি গতকাল, বৃহস্পতিবারও ভেঙে পড়েছে সিমেন্টের দলা।

এদিনের দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে পড়ুয়ারা। কিন্তু তাও প্রাণ হাতে নিয়েই স্কুলে ক্লাস করছে তারা। চলছে পড়াশোনা। মাথাকে রক্ষা করার জন্য ক্লাসরুমে ছাতা খুলে বসে রয়েছে খুদেরা (Ceiling fall in classroom)। শিক্ষকদের কথায়, স্কুল ভবন যদি না সারানো হয়, তাহলে এই অবস্থায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া খুব বিপদের।

এমন বেহাল দশা সত্ত্বেও কেন এই ভবনেই স্কুল চালানো হচ্ছে। এই বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, “বিষয়টি বহুবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি”। স্কুলের এই দশা দেখে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরাও (Ceiling fall in classroom)। সন্তানদের এমন অবস্থাতেও এই স্কুলে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।এক অভিভাবকের কথায়, “এখানে আরও একটি স্কুল আছে বটে। তবে সেটা অনেক দূরে। বাচ্চাদের পাঠাতে পারি না। কিন্তু এই পরিস্থিতি যদি না বদলায় তাহলে আর বাচ্চাকে পাঠাব না”।

জানা গিয়েছে, এই স্কুলে ৪৮ জন পড়ুয়া রয়েছে। ছাতা মাথায় দিয়েই ক্লাস করে তারা। এক খুদে বলছে, “চাঙড় ভেঙে ভেঙে পড়ছে (Ceiling fall in classroom)। আমরা তাই ছাতা মাথায় দিয়ে পড়াশোনা করছি। ছাদ যদি ঠিক না হয়, তাহলে আমরা আসব না”। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যাতে এই দিকে একটু নজর দেয়, এখন সেই প্রার্থনাই করছেন অভিভাবকরা।

আরও অন্যান্য খবর