করোনা পরিস্থিতির পর থেকেই হঠাৎ করে চর্চার মধ্যে উঠে এসেছিলেন ডালহৌসি চত্বরের এই নন্দিনীদি। বেশ স্মার্ট, সুন্দর পোশাকআশাক পরে একটি মেয়ে খাবারের দোকান সামলাচ্ছে, এমন ঘটনা নজরে আসতেই ভাইরাল হয় সেটি। ধীরে ধীরে তুমুল ভাইরাল হয় সেই দোকান সঙ্গে নন্দিনীও। ফুড ভ্লগারদের কাছে তো তিনি স্মার্ট দিদি নন্দিনীদি বলেই পরিচিত হয়ে ওঠেন। ভাইরাল হওয়ার ফলে মিলেছিল সিনেমায় একটি রোলও। কিন্তু আচমকাই ছন্দপতন। যে দোকানকে ঘিরে এত জনপ্রিয়তা, সেই দোকানটাই বন্ধ হয়ে গেল নন্দিনীর।
গত মাসে নবান্নের এক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রশাসনিক বৈঠকে হকার উচ্ছেদের নির্দেশ পাওয়ার পরই তৎপর হয় পুলিশ। রাজ্যের নানান প্রান্তে শুরু হয় হকার উচ্ছেদ অভিযান। ফুটপাতে থাকা নানান দোকান তুলে দেওয়ার জন্য ১ মাস সময় দেওয়া হয় হকারদের। এবার দোকানের ঝাঁপ পড়ল নন্দিনীর।
দোকান যে বন্ধ হতে পারে, এমন আশঙ্কা আগেই করেছিলেন নন্দিনী। এবার সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। ডালহৌসির দোকানটি ছাড়তেই হল নন্দিনীকে। এক ফুড ভ্লগারকে নন্দিনী জানান, “বলতে পারো জোর করা হয়েছে। আমার বলার কিছুই নেই। আমার বাবাকে ভাড়ায় দিয়েছিল। বাবা লকডাউনের আগে নিয়েছিল। নিজের জিনিসে প্রভাব খাটানো যায়। অন্যের জিনিসে যায় না”।
ডালহৌসির দোকান বন্ধ হলেও বেকার একেবারে হয়ে যান নি নন্দিনী। কিছুমাস আগেই আবার নিউটাউনে একটি দোকান খুলেছেন তিনি। এর নাম ‘নন্দিনীদির হেঁশেল’। সেই দোকানের নানান ভিডিও-ও ইতিমধ্যে ভাইরাল। সেই দোকান থেকেও ভালোই রোজগার হচ্ছে বলে জানালেন নন্দিনী।
তবে নন্দিনীর ডালহৌসির দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে অনেকেই সমবেদনা জানালেও কটাক্ষ করতেও কিন্তু ছাড়েন নি নেটিজেনরা। অনেকের মতেই, নন্দিনীর দোকানের খাবারের মান আর আগের মতো ছিল না। আগে যতটা ক্রেজ থাকত, ইদানিং আর তেমনটা ছিল না।
একজন কমেন্ট করেন, “ফুটপাতে দোকান, এমন হাবভাব, ফাইভ স্টার হোটেলের মালিকেরাও দেখায় না। ফুটপাতে দোকান কোথায় সাধারণ অসহায় মানুষ একটু কম পয়সায় খাবে তা না, খালি বড় বড় কথা, দাম বাড়িয়েই চলেছে, ভগবান যা করে মঙ্গলের জন্য”। আবার অন্য একজন লিখেছেন, “আরেক জন লিখলেন, ‘নিউটাউনে দোকান এখন, কিন্তু চলে না, কারণ প্রচুর দাম নেয়। অথচ আশেপাশে প্রত্যেকটা দোকান রমরমিয়ে চলে। ডালহৌসিতে যখন দোকান ছিল সাধারণ মাছ ভাতের দাম নিতো ৮০ টাকা। ওর ঠিক পাশের দোকানে ৪৫ টাকা। এটা কি মানা যায়”?






