আর জি কর কাণ্ডে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছেন নানান স্তরের মানুষ। তরুণী চিকিৎসককে ন্যায় বিচার পাইয়ে দিতে চলছে মিছিল, প্রতিবাদ। এই নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও চলছে বেশ। এমন অবস্থায় কী নির্যাতিতার মা-বাবা এই প্রতিবাদ আন্দোলনে যোগ দেবেন, তা নিয়ে ওঠে প্রশ্ন।
আর জি করের নির্যাতিতার মা-বাবা প্রথম থেকেই জানিয়েছেন যে যারা তাঁদের মেয়ের জন্য লড়াই করছেন, যারা আন্দোলন করে পথে নেমেছেন, তাদের পাশে তারা সবসময় রয়েছেন। তারা জানান, তারা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জুড়ে মেয়ের জন্য প্রতিবাদ মিছিলে নামতে চান না। তারা নিরপেক্ষ মিছিলেই যোগ দিতে চান মেয়ের ন্যায় বিচারের জন্য।
আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের বাবা জানান, যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে তারা আর জি করে গিয়ে আন্দোলনরত পড়ুয়া চিকিৎসকদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেবেন। দরকারে পথে নেমে মেয়ের সুবিচারের জন্য মিছিলেযোগ দেবেন। কিন্তু পুরোটাই নিরপেক্ষভাবেই। কোনও রাজনীতি চান না তিনি।
নির্যাতিতার মা জানান, তিনি নিজের মেয়েকে হারিয়েছেন। চিকিৎসক পড়ুয়াদের নিজের সন্তানদের মতো মনে করেন তিনি। সিবিআই তদন্ত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতার মা। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, এই ঘটনার দ্রুত বিচার চাইছেন তারা। কিন্তু এতদিন হয়ে যাওয়ার পরেও এখনও কিছুই হল না, তা নিয়ে বেশ আক্ষেপ রয়েছে নির্যাতিতার মা-বাবার মধ্যে।
আর জি করের ঘটনায় প্রথম থেকেই রাজ্য সরকার ও রাজ্য পুলিশের উপর ভরসা করেছিলেন তরুণী চিকিৎসকের মা-বাবা। কিন্তু সেই ভরসা হারান তারা। তদন্ত ঠিক পথে এগোচ্ছে না, এমনটা সন্দেহ করে সিবিআই তদন্তের আর্জি নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তারা। কলকাতা হাইকোর্টের তরফে এই মামলার তদন্ত দেওয়া হয় সিবিআইয়ের উপর। যদিও এবার সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়েও বিশেষ সন্তুষ্ট নন তারা।
এখনও পর্যন্ত সঞ্জয় রায় ছাড়া কেউ গ্রেফতার হয়নি এই ঘটনায়। কিন্তু নির্যাতিতার মা-বাবা সহ অনেকেরই দাবী এই ঘটনা সঞ্জয়ের পক্ষে একা ঘটানো সম্ভব নয়। এদিকে আবার ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও এমন ইঙ্গিত মিলেছে যে তরুণী চিকিৎসককে গণধর্ষণ করা হয়নি। যদিও এখনও তদন্ত বাকি। আজ, রবিবার পলিগ্রাফ টেস্ট হচ্ছে সঞ্জয়ের। সেই টেস্টে কোনও বিস্ফোরক সত্যি সামনে আসে কী না, সেটাই দেখার!






