ধর্না প্রত্যাহার তবে অতিরিক্ত খাবার-জামাকাপড় নিয়ে বন্যা দুর্গত এলাকায় পৌঁছচ্ছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা, তিলোত্তমার স্মৃতিতে চালাবেন মেডিক্যাল ক্যাম্পও

আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় রাজ্য উত্তাল। দিকে দিকে চলছে প্রতিবাদ-আন্দোলন। গত ৪১ দিন ধরে কর্মবিরতি চালাচ্ছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। তবে আজ, শুক্রবার থেকে তাদের আংশিক কর্মবিরতি উঠবে বলে জানিয়েছেন তারা। তারা এও জানান, তাদের ধর্না মঞ্চে আসা অতিরিক্ত শুকনো খাবার, পানীয় জল ও জামাকাপড় নিয়ে আজই তারা নানান বন্যা দুর্গত এলাকায় পৌঁছবেন।

নিজেদের দাবী নিয়ে গত ১১ দিন ধরে স্বাস্থ্য ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। তাদের ১৫ দফা দাবীর মধ্যে ১০ দফা দাবী মেনেছে সরকার। বাকি দাবীও মানা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই আংশিক কর্মবিরতি তুলছেন চিকিৎসকরা। গতকাল, বৃহস্পতিবার রাতেই তারা জানান, আজ, শুক্রবার স্বাস্থ্য ভবন থেকে সিজিও কমপ্লেক্স মিছিল করার পর ধর্নার অবসান হবে তাদের। আগামীকাল, শনিবার থেকে জরুরি পরিষেবা কাজে যোগ দেবেন তারা।

জুনিয়র চিকিৎসকরা এও জানান, তাদের ধর্না চলাকালীন সেখানে যে সমস্ত শুকনো খাবার, পানীয় জল, জামাকাপড় এসে পৌঁছেছে, তা অনেক। সেই অতিরিক্ত খাবার, পানীয় জল, জামাকাপড় নিয়ে তারা বন্যা দুর্গত এলাকায় পৌঁছবেন। আন্দোলনরত চিকিৎসকরা জানান, “সহপাঠীর বিচারের দাবিতে আমরা পথে নেমেছিলাম। এই ৪১ দিন ধরে মানুষ যেভাবে আমাদের সমর্থন জানিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছে, খাবার পৌঁছে দিয়েছে তার কৃতজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না”।

তারা আরও বলেন, “গত ৪১ দিন ধরে লাখো লাখো মানুষ যেভাবে আমাদের পাশে থেকেছেন একইভাবে এখন রাজ্যের বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সময় এসেছে। তাই মানুষের পাঠানো অতিরিক্ত শুকনো খাবার, জল, জামাকাপড় নিয়ে আমরা দুর্গত এলাকার মানুষের পাশে পৌঁছব”।

দক্ষিণবঙ্গের নানান এলাকা এই মুহূর্তে বানভাসি। হাওড়া, হুগলি, মেদিনীপুর, বর্ধমানের নানান জায়গায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সেই সমস্ত জায়গায় সাহায্য নিয়ে পৌঁছবেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। শুধু তাই-ই নয়, বন্যা দুর্গত এলাকায় মেডিক্যাল ক্যাম্পও করবেন তারা। চালাবেন ‘অভয়া ক্লিনিক’।

আরও পড়ুনঃ ‘চুরি বিদ্যা মহাবিদ্যা যদি না পড় ধরা…’, পার্থর জামিন নিয়ে আদালতে সওয়াল সিবিআইয়ের, জামিন কী পাবেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী?

বলে রাখি, জুনিয়র চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসার পর থেকেই তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন সাধারণ মানুষ। এতদিন ধরে নানান স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সাধারণ মানুষের তরফে তাদের খাবার, পানীয় জল, জামাকাপড় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সেই সমস্ত সাহায্য এই মুহূর্তে পাহাড়ে পরিণত হয়েছে। সেই অতিরিক্ত জিনিস নিয়েই এবার জুনিয়র চিকিৎসকরা পৌঁছবেন বন্যা দুর্গত এলাকায়।

আরও অন্যান্য খবর