আর জি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের হাওয়া। এই ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে কর্মবিরতি করে আন্দোলন করেছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। স্বাস্থ্য ভবনের সামনে ধর্না, লালবাজার অভিযান সবই করেছেন তারা। প্রশাসনিক পদে কিছু বদল এনেছেন। তাদের এই আন্দোলনে সবসময় পাশে ছিলেন সাধারণ মানুষ। তবে জুনিয়র চিকিৎসকদের এই আন্দোলনকে এবার ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
আর জি করের ঘটনার পর থেকেই কর্মবিরতির ডাক দিয়েছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। প্রায় ১১ দিন স্বাস্থ্য ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করেছেন তারা। সরকার তাদের কিছু দাবী মেনে নিলে আংশিকভাবে কাজে ফিরেছেন চিকিৎসকরা। তবে তারা এমনও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে তাদের দাবী যদি পূরণ না হয়, তাহলে তারা বৃহত্তর আন্দোলন করবেন।
তাদের এই আন্দোলনের সমালোচনা করলেন দিলীপ ঘোষ। বর্ধমানের এক কর্মসূচি থেকে তিনি বলেন, “এত নাটক করে কী লাভ হল? যাঁরা বদলি হলেন, তাঁরা সবাই প্রোমোশন পেলেন। মোমবাতি জ্বেলে, তালি দিয়ে কী হল? কেন অহেতুক মানুষ দেড় মাস কষ্ট করলেন? হাসপাতালের যে অব্যবস্থা, তার কি কোনও পরিবর্তন হল? এই প্রশ্ন মানুষের মুখে ঘুরছে”।
বিজেপি নেতার এহেন মন্তব্যে বেশ চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য মোটেই ভালোভাবে নেন নি জুনিয়র চিকিৎসকরা। তারা এই প্রসঙ্গে বলেন, “এই আন্দোলন শুধু মাত্র জুনিয়র চিকিৎসকদের ছিল না। মানুষের আন্দোলনকে নাটক বলা হলে এটা আমজনতাকে ছোট করা”।
বিজেপি নেতাকে পালটা প্রশ্ন ছুঁড়ে জুনিয়র চিকিৎসকরা বলেন, “আমরা ছাত্ররা আন্দোলন করেছি বিচারের জন্য। যত ক্ষণ বিচার না পাব, আমাদের আন্দোলন চলতে থাকবে। সুপ্রিম কোর্টের শুনানি এত কেন পিছনে, সেই বিষয়ে তাঁর কী বক্তব্য? সেটা তিনি বলুন”।
আরও পড়ুনঃ পুজোর আগে বন্যার জেরে প্রাণ খুইয়েছেন একাধিক, মৃতদের পরিবারের পাশে মমতা, আর্থিক সাহায্য করবে রাজ্য
বলে রাখি, তরুণী চিকিৎসককে নির্মমভাবে হত্যার ন্যায় বিচার, আসল দোষীদের কঠোর শাস্তি, পুলিশ কমিশনার ও স্বাস্থ্য কর্তাদের অপসারণ এমন নানান দাবী নিয়ে নিজেদের আন্দোলন জারি রেখেছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠক হয়েছে মুখ্য্যসচিবের সঙ্গেও। সরকারের তরফে তাদের বেশ কয়েক দফা দাবী মেনে নেওয়া হলে আংশিক কর্মবিরতি তুলে জরুরি পরিষেবার কাজে ফেরেন তারা। তবে তারা এও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের দাবী যদি পূরণ না হয়, তাহলে তারা ফের অবস্থান বিক্ষোভ করবেন।






