নানান তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ কম নয়। কেউ কয়লা চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত তো কেউ আবার গরু চুরির অভিযোগে। কিছুদিন আগেই জেল খেটে বাড়ি ফিরেছেন গরু চুরির দায়ে অভিযুক্ত অনুব্রত মণ্ডল। আর এবার এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে উঠল বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ। হাতেনাতে ধরাও পড়তেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার তৃণমূল নেতার।
তৃণমূল নেতার এহেন এক খবরে ফের নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। শাসক-বিরোধী তরজা শুরু। এই ঘটনার কথা চাউর হতেই শাসকদলকে একহাত নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে বিরোধীরা। স্থানীয় এক বিজেপি নেতার কথায়, “তৃণমূল মানেই যে চোর সেটা আরও একবার প্রমাণ হল। ওই নেতা নিজের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যুৎ চুরি করতেন। স্থানীয় মানুষজন সবকিছু জানলেও ওই নেতার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারতেন না। কিন্তু এখন এফ আই আর দায়ের হওয়ায় দিনের আলোর মতোই প্রকাশ্যে চলে এসেছে গুরুতর এই অভিযোগ”।
এই বিদ্যুৎ চুরির ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের আলুয়াচক এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, তমলুকের শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের খারুই ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত আলুয়াচকে একটি দোতলা বাড়ি রয়েছে স্থানীয় ব্লক তৃণমূল নেতা সুনীল দেব অধিকারীর। পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্য তিনি। তাঁর স্ত্রী নীলিমা দেব অধিকারীও পঞ্চায়েত সমিতির মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ দফতরের প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সুনীল দেব অধিকারী নিজের রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ চুরি করছেন দীর্ঘদিন ধরে। প্রকাশ্যেই বাড়ির সামনের রাস্তার লাইন থেকে হুক করে নিজের বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ করেছেন তিনি। এই খবর পেয়ে ওই এলাকায় আচমকাই হানা দেন বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকরা। একেনারে হাতেনাতে ধরে ফেলেন ওই তৃণমূল নেতাকে। তমলুক থানায় ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে বিদ্যুৎ দফতর।
এই ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়া ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় তুমুল গুঞ্জন শুরু হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা। তাঁর পাল্টা দাবী, “আমাকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে। এই বিদ্যুৎ চুরির সঙ্গে আমার পরিবারের কেউ যুক্ত নয়”। এই ঘটনা প্রসঙ্গে তমলুক থানার আইসি সুভাষচন্দ্র ঘোষ জানিয়েছেন, “দফতরের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে”।





