বাঁশদ্রোনীতে পে-লোডারের চাপে কিশোর মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল থেকে উত্তাল পরিস্থিতি। এই ঘটনার প্রতিবাদে গত রাত থেকে বাঁশদ্রোনী থানায় ধর্নায় বসেছিলেন বিজেপি নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। কিশোর মৃত্যু ও বিজেপি কর্মীদের গ্রেফতারির প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন তিনি। আজ, বৃহস্পতিবার সকালেই গ্রেফতার করা হল তাঁকে।
গতকাল, বুধবার বাঁশদ্রোনীর ১১৩ নম্বর ওয়ার্ডে পে-লোডারের ধাক্কায় মৃত্যু হয় এক নবম শ্রেণীর কিশোরের। পে-লোডারটি পিষে দেয় ওই কিশোরকে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসক কিশোরকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ওই এলাকা। স্থানীয়রা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। স্থানীয় কাউন্সিলর যাতে এলাকায় যান, সেই দাবী তোলেন তারা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বাঁশদ্রোনী থানার পুলিশ। পৌঁছন পাটুলি থানার ওসিও। তাঁকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান এলাকাবাসীরা। দীর্ঘক্ষণ পুলিশকে ঘেরাও করে রাখেন তারা। এরই মধ্যে আচমকাই কিছু বহিরাগত আসে পুলিশের উদ্ধারে। মুখে তারা বলে বটে যে তারা পুলিশের লোক। কিন্তু স্থানীয়দের দাবী, তারা আসলে তৃণমূলের দুষ্কৃতী। তারা এলাকাবাসীদের মারধর করে বলে অভিযোগ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি। অভিযোগ, পুলিশ সেই অভিযুক্তদের পালাতে সাহায্য করেছে। এই অশান্তির মধ্যেই ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয় ৫ জনকে। তাদের মধ্যে একজন বিজেপি কর্মী রুবি দাস মণ্ডল যিনি ওই ওয়ার্ডের পুরসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী ছিলেন।
দলের কর্মী গ্রেফতার হতেই ওই এলাকায় যান বিজেপি নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। পাটুলি থানায় অবস্থান বিক্ষোভ করেন তিনি। বিজেপি কর্মীরাও থানায় গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। রাত পর্যন্ত চলে অশান্তি। ধর্নায় বসেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। বিজেওই কর্মীর গ্রেফতারি ও কিশোর মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদ করতে থাকেন তিনি। গোটা রাত অবস্থান বিক্ষোভের পর আজ সকাল হতেই গ্রেফতার করা হয় বিজেপি নেত্রীকে।





