গত শনিবার থেকে আমরণ অনশন করছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। নিজেদের ১০ দফা দাবীতে অনড় তারা। প্রথমে এই অনশন ৬ জন জুনিয়র চিকিৎসক শুরু করেছিলেন। পরে তাদের যোগ দেন আর জি করের জুনিয়র চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো। সকলেরই অবস্থার অবনতি হয়েছে। তবে অনিকেতের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যাচ্ছে।
অনশন মঞ্চে সর্বক্ষণই কোনও না কোনও চিকিৎসক অনশনরত চিকিৎসকদের খেয়াল রাখছেন। জানা গিয়েছে, সকলেরই শারীরিক অবস্থা আগের থেকে খারাপ হয়েছে। কিন্তু অনিকেত মাহাতোর অবস্থা বেশি খারাপ। এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, অনিকেতের দেহে কিটোন বডির উপস্থিতি মিলতে শুরু করেছে। কিটোন বডির পরিমাণ ৩+।
জানা গিয়েছে, কিটোন বডি যদি বাড়তে থাকে, তাহলে কিটো অ্যাসিডোসিস হয়ে রোগী কোমায় যেতে পারে। ধীরে ধীরে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই অনিকেতের লিভারে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জানা গুয়েছে। চিকিৎসকরা বেশ উদ্বেগে। কিন্তু তাও নিজেদের দাবীতে অনড় অনিকেত-সহ বাকি অনশনকারীরা।
চিকিৎসকরা এও জানিয়েছেন, কেবল অনিকেতই নয়, অনশনকারী বাকিদের শারীরিক অবস্থারও অবনতি হচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতে আর জি করের আইসিইউ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে খবর। অনশন মঞ্চের সামনে রাখা রয়েছে অ্যাম্বুলেন্স। কিন্তু হাসপাতালে যেতে নারাজ অনিকেত।
আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে আমরণ অনশন চালাচ্ছেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। ১১৩ ঘণ্টার বেশি সময় কেটে গিয়েছে, তাও নিজেদের দাবী থেকে একচুলও সরানো যায়নি তাদের। তাদের পাশে প্রতীকী প্রতিবাদ করছেন সাধারণ মানুষও। এখনও পর্যন্ত জুনিয়র চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে গণইস্তফা দিয়েছেন ২৫০ জন সিনিয়র চিকিৎসক। অনেক সিনিয়র চিকিৎসকরা অনশনএর চিকিৎসকদের বলেছেন যাতে তারা অনশন প্রত্যাহার করে নেন। কিন্তু জুনিয়র চিকিৎসকরা তা মানতে নারাজ।
গতকাল, বুধবার রাতে মুখ্যসচিব জুনিয়র চিকিৎসকদের ডেকে পাঠান বৈঠকের জন্য। তবে সেই বৈঠক সদর্থক নয় বলে জানান জুনিয়র চিকিৎসকরা। সেই কারণে তারা অনশন অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেন।





