সামনেই রাজ্যের ৫ বিধানসভা কেন্দ্রে রয়েছে উপনির্বাচন। এই নির্বাচনের জন্য ৫ কেন্দ্রে প্রার্থীর নামও ঘোষণা করা হয়েছে বিজেপির তরফে। অনেকেই হয়ত আশা করেছিলেন মেদিনীপুর কেন্দ্রের জন্য দিলীপ ঘোষের নাম ঘোষণা করা হবে, কিন্তু তেমনটা হয়নি। কেন তেমনটা হল না, এবার এই নিয়ে মুখ খুললেন বিজেপি নেতা নিজেই।
২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে তাঁর পরিচিত গড় মেদিনীপুর থেকে প্রার্থী করা হয়নি দিলীপ ঘোষকে। তাঁকে সরানো হয় বর্ধমান-দুর্গাপুরে। সেখানে তৃণমূলের কিয়াছে হেরে যান তিনি। তাঁর এই কেন্দ্রে বদলের নেপথ্যে দলেরই ‘ষড়যন্ত্র’ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন দিলীপ নিজেই। সেই কাত্রনে অনেকেই মনে করেছিলেন, দিলীপের মান ভাঙাতে হয়ত মেদিনীপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে তাঁকে টিকিট দেওয়া হবে। কিন্তু তাঁর পরিবর্তে টিকিট দেওয়া হয়েছে শুভজিৎ রায়কে।
২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে মেদিনীপুরের পাশের আসন খড়গপুর থেকে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। যদিও ২০১৯ সালে মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতে তিনি সাংসদ হন। এই মেদিনীপুর বিধানসভা থেকে জিতেছিলেন জুন মালিয়া। তবে ২০২৪-এ সেই কেন্দ্র থেকেই লোকসভা ভোটে জিতে সাংসদ হয়েছেন তিনি। ফলে মেদিনীপুর আপাতত বিধায়কহীন। সেই কারণেই উপনির্বাচন।
জানা গিয়েছে, এই উপনির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে জেলা বিজেপি নেতৃত্বের তরফে যে প্রস্তাবিত পাঁচ নাম রাজ্য নেতৃত্বের কাছে দেওয়া হয়েছিল, তাতে দিলীপ ঘোষের নামও ছিল। কিন্তু তিনি লড়তে চান নি বলে খবর। তাহলে কী অভিমান থেকেই এমন সিদ্ধান্ত তাঁর।
প্রার্থী প্রসঙ্গে মেদিনীপুর জেলা বিজেপির সভাপতি সুদাম পণ্ডিত বলেন, “দলের কর্মীরা দিলীপ ঘোষ উপনির্বাচনের প্রার্থী হোক চেয়েছিলেন। তাই পাঁচটি নাম সকলের সম্মতিতে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পাঠানো হয়েছিল। তার মধ্যে দিলীপবাবুর নামও ছিল। কিন্তু পরে ফোন করে আমাকে বলেছিলেন উপনির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান না”।
দিলীপ ঘোষকে নিয়ে যখন চর্চা তুঙ্গে, সেইব সময় তিনি জানান, “আমি দলকে বলেছিলাম, উপনির্বাচনে লড়ব না। তাই তারা অন্য নাম ঠিক করেছে। মেদিনীপুরে দল জেতা শুরু করেছে আমি আসার পর থেকে। আমি খড়গপুর সদর বিধানসভায় জিতেছিলাম। মেদিনীপুর লোকসভায় জিতে ছিলাম। এখন আমি দলের কোনও পদে নেই। তাই অনেকেই দাবি করেছিলেন আমি যেন উপনির্বাচনে প্রার্থী হই। এদের অনেকের সঙ্গে আমি কাজও করেছি। তাই আমার নাম নেয়”।
দিলীপ আরও জানান, “বাংলায় দলের কোনও দায়িত্বে আমি নেই। ত্রিপুরায় কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছে দল। আমার আশীর্বাদ রইল”। এর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কী বাংলা থেকে নিজেকে দূরে সরাতে চাইছেন দিলীপ ঘোষ? অভিমান থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কী তিনি?






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার