‘বৈঠকে প্রশাসনের শরীরী ভাষা একেবারেই ইতিবাচক লাগে নি, সন্তুষ্ট নই আমরা’, অনশন তুলে নিলেও মমতার সঙ্গে বৈঠক নিয়ে অসন্তুষ্ট জুনিয়র চিকিৎসকরা

গতকাল, সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। বৈঠকের জন্য ৪৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হলেও সেই বৈঠকের সময়সীমা গড়ায় ২ ঘণ্টারও বেশি। তবে সেই বৈঠকে মোটেই সন্তুষ্ট নন জুনিয়র চিকিৎসকরা। তাদের কথায়, বৈঠকে প্রশাসনের শরীরী ভাষা তাদের মোটেই ইতিবাচক লাগেনি।   

এদিনের বৈঠকের পর অনশন মঞ্চে ফিরে জুনিয়র চিকিৎসকরা জানান, তিলোত্তমার মা-বাবা ও সাধারণ মানুষের অনুরোধে তারা অনশন প্রত্যাহার করছেন। তবে সঙ্গে এও স্পষ্ট করে দেন এদিনের বৈঠক নিয়ে তারা বিশেষ সন্তুষ্ট হতে পারছেন না।

এদিনের নবান্নের বৈঠকে নানান বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়, যার মধ্যে ছিল ন্যাশানাল টাস্ক ফোর্সের বিষয়টিও। এক জুনিয়র চিকিৎসক বৈঠকে জানান, “ম্যাডাম যে ন্যাশনাল লেভেল টাস্ক ফোর্স তৈরি করার কথা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে, যে মেডিক্যাল কলেজের কোন কোন জায়গায় সিসিটিভি বসানোর প্রয়োজন আছে। সেই সমস্ত জায়গায় সিসিটিভির প্রয়োজন কতটা, তার একটা তালিকা স্বাস্থ্যভবনে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ম্যাডাম, স্বাস্থ্য তার নিজের মতো করে রেকমন্ডেশন সাজিয়েছে বা স্যাংশন হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত চাহিদা কতটা”?

এই প্রশ্ন তুলতেই মমতা বলেন, “দেখো আমরা যেটা সুপ্রিম কোর্টকে কথা দিয়েছি, সেটা আমরা করব। বাদ বাকি তোমরা তো বোঝো, সবই একদিনে চাইলে, অর্থেরও প্রয়োজন আছে। সেটা তৈরি করতেও প্রয়োজন আছে। একদিনে সব কিছু পাওয়া যাবে না বাবু। একটু ওয়েট করো”।

শুধু তাই-ই নয়, এদিন থ্রেট কালচারের অভিযোগে আর জি করের ৪৭ জনকে সাসপেন্ড করা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর জি করের অধ্যক্ষ চিকিৎসক মানস বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, “প্রশাসনকে না জানিয়ে ৪৭ জনকে সাসপেন্ড করলেন। কীভাবে নিজে সিদ্ধান্ত নিলেন? এটা থ্রেট কালচার নয়? আমাদের জানালেন না কেন? স্বাস্থ্যবিভাগকে জানালেন না কেন? সরকার বলে একটা পদার্থ আছে”।

সেই প্রেক্ষিতে চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো বলেন, “কমিটি তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার পর সাসপেন্ড করা হয়েছে। আপনি তদন্ত করে দেখুন। যাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে তাঁরা নটোরিয়াস ক্রিমিন্যাল। আগের অধ্যক্ষের ঘরে ঢুকতে গেলে দু ঘণ্টা দাঁড়িযে থাকতে হত। আমি ক্রিমিনালের পক্ষে থাকব? ধর্ষকদের পক্ষে থাকব? যদি মনে হয় নির্দোষ, ফিরিয়ে আনুন। তবে যারা সাসপেন্ড হয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ভূড়ি ভূড়ি অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত করেই সিদ্ধান্ত হয়েছে”।

আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের পদ ছাড়তে চলেছেন অনুব্রত, দলকেও কী বিদায় জানাবেন? ‘দিদি’র সঙ্গে দূরত্ব তাঁর প্রিয় ‘কেষ্ট’র?

এদিন বৈঠক শেষে জুনিয়র চিকিৎসকরা জানান, “এর আগে আমরা বহু মিটিংয়ে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের দাবী জানিয়েছিলাম। যে আমাদের লাইভ স্ট্রিমিং চাই। আমরা দেখলাম যে লাইভ স্ট্রিমিং হয়েছে। আজকে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে, এই মিটিংয়ে কী কী হয়েছে, গোটা রাজ্যবাসী মোটামুটিভাবে দেখতে পেয়েছেন। একটা কথা স্পষ্ট যে আমরা আজকে যে গোটা মিটিংয়ে প্রশাসনের যে শরীরী ভাষা, সেটা আমাদের একদম পজেটিভ লাগেনি”। তাদের কথায়, তারা অনশন তুলে নিলেও পরবর্তীতে যদি তিলোত্তমার ন্যায় বিচারের জন্য ফের অনশন করতে হয়, তাহলে তারা তাও করবেন।

আরও অন্যান্য খবর