ওয়াকফ বিল নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটির বৈঠকে যে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটেছে, তা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে বেশ শোরগোল। বৈঠক চলাকালীন কাচের বোতল ছুঁড়ে ভেঙে দেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এর জেরে নিজেই হাতে আঘাত পান তিনি। বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গেও চলে তাঁর বচসা। এবার সেই নিয়েই মুখ খুললেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
গতকাল, মঙ্গলবার সংসদের অ্যানেক্স ভবনে ছিল যৌথ সংসদীয় কমিটির বৈঠক। ওয়াকফ বোর্ড সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনা চলছিল বৈঠকে। এই বৈঠকে হাজির ছিলেন কমিটির সভাপতি প্রবীণ সাংসদ জগদম্বিকা পাল, তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, AIMIM সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। এরই মধ্যে বৈঠকে ঘটে যায় ধুন্ধুমার কাণ্ড।
এদিন বৈঠকে দুটি সংগঠন ওয়াকফ আইন নিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাচ্ছিল। সেই সময় বারবার নিজের বক্তব্য রাখতে চাইছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সভাপতি তাঁকে বলার সুযোগও দেন। কিন্তু কল্যাণ তাতে সন্তুষ্ট ছিলেন না। তিনি ফের বলতে চাইছিলেন। আর তাতেই প্রতিবাদ করেন বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
অভিযোগ, সেই সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে গালিগালাজ করতে থাকে। দু’পক্ষের মধ্যে শুরু হয় বচসা। এক পর্যায়ে গিয়ে কল্যাণ বন্দপাফহায় কাচের জলের বোতল ছোঁড়েন সভাপতির দিকে। তাতে তাঁর কিছু হয়নি কিন্তু সেই ভাবগা চোট পান কল্যাণ নিজেই। হাতের ২টি আঙুল জখম হয় তাঁর। সেই ঘটনায় তাঁকে বৈঠক থেকে একদিনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
সেই ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় গত দু’দিন ধরে আমায় অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছে। সেটা চেয়ারম্যান শুনেছে। কালকেও শুরু করেছিল হঠাৎ। সেই সময় চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত কারণে বাইরে ছিলেন। ফিরে এসে কল্যাণকে শান্ত হতে বলেন। সেই সময় কল্যাণ কাচের বোতল ভেঙে ছোড়ে চেয়ারম্যানের দিকে। সেটা যদিও চেয়ারম্যানের গায়ে না লেগে ডেস্কে লেগে অন্যদিকে ছিটকে গিয়েছে। আর কিছুক্ষণ পর দেখা যায় কল্যাণের হাত থেকে রক্ত ঝরছে।
আরও পড়ুনঃ গতকালই চিঠি দিয়েছিলেন আর জি করের নির্যাতিতার মা-বাবা, রবিবার বাংলায় আসছেন অমিত শাহ, নির্যাতিতার মা-বাবার সঙ্গেই সাক্ষাতের জন্য বঙ্গ সফর?
তিনি আরও বলেন, “একজন সাংসদের আচরণ কোনওভাবেই কাম্য নয়। তবে উনি এমন আচরণ করেন, যাঁরা রকে বা চায়ের দোকানে আড্ডা মারে তাঁরাও এমন করে না। চূড়ান্ত গালাগালি দিয়ে থাকেন। আমি জানি না কী অবস্থায় উনি মিটিংয়ে আসেন। তবে এই আচরণ নিয়ে স্পিকারকে জানানোর কথা ভাবা হচ্ছে। আমিও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে গোটা ব্যাপারটা জানানোর চেষ্টা করব”।





