গত কয়েক বছর ধরেই মাঝেমধ্যেই খবরের শিরোনামে উঠে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। কখনও র্যাগিং, কখনও প্রতিবাদ তো কখনও আবার পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়ায় এই বিশ্ববিদ্যালয়। এবার ফের একবার শিরোনামে কলকাতার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এবার রহস্যমৃত্যু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের। এই মৃত্যুর কারণ ঘিরে ধোঁয়াশা।
জানা গিয়েছে, মৃত অধ্যাপকের নাম মৈনাক পাল। বরাহনগরের বাসিন্দা এই অধ্যাপক যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। পাহাড়ে ঘোরা একপ্রকার নেশা ছুঁল বলা যায় মৈনাকের। সেই নেশার জেরেই তাঁর প্রাণ গেল!
সূত্রের খবর, কিছুদিন আগেই দুই বন্ধুর সঙ্গে উত্তরাখণ্ডের আলমোড়ায় ঘুরতে গিয়েছিলেন মৈনাক। তাদের বাড়ি ফেরার কথা ছিল বাঘ এক্সপ্রেসে। সেই কারণে আলমোড়ার নীচের দিকের এলাকার একটি হোটেলে ছিলেন তিনি। গতকাল, শুক্রবার সেই হোটেলের ঘর থেকেই মৈনাকের দেহ উদ্ধার হয়।
জানা গিয়েছে, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিলেন মৈনাক। হাতের শিরা কাটা ছিল তাঁর। গতকাল, শনিবার ময়নাতদন্ত হয় দেহের। দেহটি রাজ্যে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। এই বিষয় নিয়ে পুলিশ বিশেষ কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বলেই খবর। তবে এই মৃত্যুকে ঘিরে বেশ ধোঁয়াশা রয়েছে। মৈনাক কী আত্মহত্যা করেছেন। তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। তাহলে তাঁর শরীর রক্তাক্ত কেন, সেখানেও প্রশ্ন রয়েছে। যদি তিনি খুন হয়ে থাকেন, তাহলে ভিনরাজ্যে কে খুন করল তাঁকে, কীই বা কারণ, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। চলছে তদন্ত।
অধ্যাপকের মৃত্যুর ঘটনায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ভাস্কর গুপ্ত বলেন, “মৈনাকের চলে যাওয়াতে আমরা মর্মাহত, শোকাহত। শুধু অধ্যাপক নয় একজন উজ্জ্বল গবেষক, শিক্ষককে আমরা হারালাম। বুঝতে পারছি না কীভাবে এই ঘটনা ঘটল”।
এই বিষয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্নেহমঞ্জু বসু বলেন, ” রবিবার সকাল পর্যন্ত অফিসিয়ালি কিছু জানতে পারিনি। তবে শুনেছি অধ্যাপক মৈনাক পালের মৃত্যু হয়েছে”।
আরও পড়ুনঃ আবাস যোজনায় ঘর দেওয়ার নামে লজে নিয়ে গিয়ে মহিলাকে ধর্ষণ করে খুন, পুলিশের জালে তৃণমূল কর্মী
বলে রাখি, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করেছিলেন মৈনাক। সেখানেই শুরু করেন অধ্যাপনা। এরপর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লাভ করেন উচ্চশিক্ষা। ২০২২ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। তাঁর এমন রহস্যমৃত্যুতে শোকস্তব্ধ তাঁর পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও।





