স্কুল মানেই একটাই ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ক্লাসরুমে বেঞ্চে বসে পড়ুয়ারা, তাদের সামনে খোলা বই-খাতা আর অন্যদিকে টেবিলে বসে বা ব্ল্যাকবোর্ডে কিছু লিখে পড়ুয়াদের পড়া বোঝাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। সাধারণত কোনও স্কুলে ঢুকে এমন দৃশ্যই চোখে পড়ার দের কথা। কিন্তু রাজ্যেরই এক স্কুলে ঢুকে হতভম্ব হতে হয় শিক্ষকদের কীর্তি দেখে।
স্কুলের মাঠেই শিক্ষকরা কেউ মাটি কোপাচ্ছেন তো কেউ আবার লাঙল দেওয়ায় ব্যস্ত। এমন ঘটনা স্কুলে অন্তত সচরাচর চোখে পড়ে না। ফলে আপাতদৃষ্টিতে দেখে মনে হতেই পারে স্কুলে পড়ানোয় ফাঁকি দিয়ে বেশ নিজেদের মতো সময় অতিবাহিত করছেন শিক্ষকরা। তবে বাস্তব সত্যিটা একটু অন্যরকম।
আসলে এই স্কুলের সামনেই অনেকটা ফাঁকা জায়গা। আর সেই ফাঁকা মাঠ দেখেই শিক্ষকদের মাথায় আসে এক ভাবনা। সেই ফাঁকা জায়গাতেই স্কুলের পড়ুয়াদের মিলের জন্য সবজিপাতি চাষ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন শিক্ষকরা। কোপালেন মাটি, বপন করলেন বীজ, বুনলেন শাকসবজির চারা। এই স্কুলে মিড ডে মিল হয়। শিক্ষকদের ইচ্ছা, তাদের স্কুলের মাঠের লাউ, সবজিপাতি দিয়েই মিড ডে মিলের রান্না হোক।
এমন অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে হুগলির গোঘাট হাইস্কুলের তরফে। জানা গিয়েছে, এই উদ্যোগের জন্য পাঁচ হাজার টাকা অনুদানও মিলেছে। তবে চাষবাসের জন্য চাষিদের খরচ জোগানো ব্যয়সাপেক্ষ। সেই কারণে শিক্ষকরা নিজেরাই চাষের কাজে হাত লাগিয়েছেন। নিজেরা কৃষক পরিবারের সন্তান হওয়ায় চাষবাস করা তাদের রক্তেই রয়েছে। সেই কারণেই ক্লাস শুরুর আগে বা ক্লাস শেষ হয়ে গেলে শিক্ষকরা নিজেরাই চাষ করছেন।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক তো নিজে জমিতে আলুর বীজ বপন করে চাষ করছেন বলে খবর। এমন উদ্যোগ নিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, “আমরা আলুর চারা স্কুলের একদিকে লাগাচ্ছি। অন্য দিকে, পালং শাক, কুমড়ো শাক লাগানো হবে। ফুলকপি, বাঁধাকপিরও চাষ হবে। স্কুলের ছাত্ররা যাতে টাটকা সবজি খেতে পারে, তার জন্যই এই চিন্তাভাবনা”।
স্কুলের অন্য এক শিক্ষক এই বিষয়ে বলেন, “আমাদের প্রায় সবাই চাষ করায় অভ্যস্ত। আমাদের বেশিরভাগই এসেছি কৃষক পরিবার থেকেই। সবারই জমি রয়েছে”। জানা গিয়েছে, এই জমিতে কোনও রাসায়নিক সার নয়, বরং জৈব সার দিয়ে উর্বর করা হয়েছে মাটি। এর ফলে ফলনও টাটকা হবে আর তা বেশি পুষ্টিকরও হবে।






